বর্ষায় জ্বর হলেই অ্যান্টিবায়োটিক? বড় বিপদ ডেকে আনছেন না তো!

বার্তা ডেস্কঃ

বর্ষাকালে জমা জল ও স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়ার কারণে ডেঙ্গি, ম্যালেরিয়া এবং নানা ভাইরাল জ্বরের প্রাদুর্ভাব ঘরে ঘরে দেখা যায়। চিকিৎসকদের মতে, এসব মরশুমি জ্বরের বেশিরভাগই সাধারণ ভাইরাল ফিভার, যা পর্যাপ্ত বিশ্রাম, জল ও প্রাথমিক যত্নে নিজে থেকেই সেরে যায়। তবে অনেকেই জ্বর হলেই দ্রুত সুস্থতার আশায় চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ফার্মেসি থেকে অ্যান্টিবায়োটিক কিনে খেয়ে ফেলেন। এই অভ্যাসের কারণে ওষুধটি শরীরের ভাইরাসের ওপর কোনো কাজ তো করেই না, বরং অযথা অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের ফলে ‘অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স’ তৈরি হয়। এর পরিণতিতে ভবিষ্যতে সত্যি কোনো বড় ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণ হলে শক্তিশালী ওষুধও শরীরে কাজ করতে চায় না। এছাড়া হুটহাট এসব ওষুধ খেলে বমি ভাব, ডায়রিয়া এবং মারাত্মক অ্যালার্জির মতো জটিলতা তৈরি হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অ্যান্টিবায়োটিক কোনো সাধারণ জ্বরের ওষুধ নয়, এটি কেবল নির্দিষ্ট ব্যাকটেরিয়াজনিত ইনফেকশন ধ্বংস করতেই ব্যবহৃত হয়। বর্ষার জ্বর সাধারণত তিন থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে স্বাভাবিকভাবে কমে এলেও কিছু লক্ষণ দেখা দিলে সতর্ক হওয়া জরুরি। তীব্র জ্বর ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টার বেশি স্থায়ী হলে, শ্বাসকষ্ট, ঘন ঘন বমি, শরীর থেকে রক্তপাত কিংবা তীব্র পেটে ব্যথা শুরু হলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। সেক্ষেত্রে মনগড়া অ্যান্টিবায়োটিক না খেয়ে সঠিক সময়ে রক্ত পরীক্ষা করিয়ে রোগ নির্ণয় করাই সুস্থ থাকার একমাত্র নিরাপদ উপায়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *