যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভয়াবহ তাণ্ডব, অরবিন্দ ভবনে আটকে আগুন লাগানোর অভিযোগ!
বার্তা ডেস্কঃ
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে (Jadavpur University) দুটি ছাত্র সংগঠনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে। ঘটনার জেরে বেশ কয়েকজন পড়ুয়া আহত হয়েছেন। বুধবার রাতে পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে, সংঘর্ষের প্রতিবাদে যাদবপুর থানার সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে এবিভিপি (ABVP)। বৃহস্পতিবার এই ঘটনার প্রতিবাদে বিশ্ববিদ্যালয় অভিযানেরও ডাক দিয়েছে সংগঠনটি।
সংঘর্ষের কারণ: জানা গিয়েছে, ফ্যাকাল্টি অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি স্টুডেন্টস ইউনিয়নের (FETSU) সাধারণ সভা (General Body meeting) আহ্বানকে কেন্দ্র করে এই গোলমালের সূত্রপাত। সভাকে ঘিরে এবিভিপি এবং এসএফআই (SFI) সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক হাতাহাতি ও মারামারি শুরু হয়। সংঘর্ষে এবিভিপির বিশ্ববিদ্যালয় সভাপতি নিখিল রায়সহ অন্তত চারজন সমর্থক আহত হন।
উভয় পক্ষের বক্তব্য ও অভিযোগ:
- এবিভিপির দাবি: এবিভিপির বক্তব্য, বিশ্ববিদ্যালয়ে আপাতত কোনো নির্বাচিত ছাত্র সংসদ নেই এবং রাজ্য সরকারেরও এ বিষয়ে কোনো নির্দেশিকা নেই। ফলে বামপন্থী সংগঠনগুলোর জিবি বৈঠক ডাকার বৈধতা নিয়ে তারা প্রশ্ন তোলে। প্রতিবাদ জানাতে গেলে ৭০-৮০ জন এবিভিপি সমর্থকের ওপর পরিকল্পিত হামলা চালায় এসএফআই, ডিএসও (DSO) ও ডিএসএফ (DSF)। গণতান্ত্রিক ছাত্ররাজনীতিতে শারীরিক আক্রমণের স্থান নেই বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন এবিভিপি সভাপতি। তবে ক্যাম্পাসে তাণ্ডব ও আগুন লাগানোর অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে এবিভিপির রাজ্য মিডিয়া ইন-চার্জ অনন্ত বারুই জানান, এটি তাদের বদনাম করার চক্রান্ত।
- এসএফআই-এর দাবি: অন্যদিকে, এসএফআই ও বামপন্থী সংগঠনগুলোর অভিযোগ, এবিভিপি বহিরাগতদের নিয়ে এসে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, বামপন্থী পড়ুয়াদের তারা তাড়া করে অরবিন্দ ভবনে নিয়ে যায় এবং সেখানে অন্তত ৩০ জন পড়ুয়াকে আটকে রেখে ভবনের বাইরে ও ক্যাম্পাসে আগুন লাগিয়ে দেয়। এছাড়া মারধর, ইট-পাটকেল নিক্ষেপ ও গণপিটুনির চেষ্টার মারাত্মক অভিযোগও এনেছে তারা।