যাদবপুর কি অরক্ষিত? সিসিটিভি পাহারাতেও কেন এই তাণ্ডব!

বার্তা ডেস্কঃ

কলকাতা: ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে ৬৩ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ৭০টি সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। পাশাপাশি ৩০ জন প্রাক্তন সেনা আধিকারিককে মোতায়েন রেখে মাসে গুনতে হচ্ছে প্রায় ৯ লক্ষ টাকা বেতন। তবুও বুধবার রাতে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অবাধে তাণ্ডব চালাল বহিরাগতরা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফের বিশ্ববিদ্যালয়ের বেআব্রু নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং শীর্ষ কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

র‍্যাগিং, যৌন হেনস্থা থেকে শুরু করে ফেস্ট চলাকালীন ছাত্রীর মর্মান্তিক মৃত্যুর ইতিহাস রয়েছে এই ক্যাম্পাসে। তারপরেও এমন নিরাপত্তার বহর থাকা সত্ত্বেও কীভাবে বহিরাগতরা তাণ্ডব চালাল, তা নিয়ে উঠছে বড় প্রশ্ন।

বুধবার রাতের এই ঘটনার পর উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্যের ভূমিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের একাংশ। অভিযোগ, ঘটনার রাতে উপাচার্যের সঙ্গে কোনো যোগাযোগই করা যায়নি। এমনকি পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ ও ক্যাম্পাসে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া নিয়েও তৈরি হয়েছে নানা দ্বিমত। ছাত্রী অনুষ্ণা দাসের কথায়, “তাণ্ডব চলা সত্ত্বেও কর্তৃপক্ষ সাহায্যের হাত বাড়ায়নি।”

বৃহস্পতিবার এবিভিপির (ABVP) অভিযান এবং বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলোর জমায়েত ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ নম্বর গেট রণক্ষেত্রের রূপ নেয়। সংঘর্ষে আহত হন দুই অধ্যাপকও। একইসঙ্গে ভেঙে ফেলা হয় নন্দলাল বসুর নকশা করা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক প্রতীক। কিন্তু এই উত্তাল পরিস্থিতিতে ভিসি, প্রো-ভিসি কিংবা ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার—কাউকেই ময়দানে দেখা যায়নি।

ঘটনাস্থলে সশরীরে হাজির না থাকলেও, উপাচার্য একটি মেসেজ বার্তায় জানান যে শুক্রবার একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে এবং অভিযুক্তদের চিহ্নিত করতে সিসিটিভি ফুটেজ পুলিশ ও কমিটির হাতে তুলে দেওয়া হবে।

তবে কর্তৃপক্ষের এমন নিষ্ক্রিয়তায় চরম ক্ষুব্ধ শিক্ষক সংগঠনগুলি। শিক্ষক সংগঠন ‘জুটা’ (JUTA)-র সভাপতি পার্থপ্রতিম রায় কর্তৃপক্ষের ঢিলেঢালা মনোভাবের প্রতিবাদে আজ কর্মবিরতির ডাক দিয়েছেন। অন্যদিকে, গেরুয়াপন্থী শিক্ষক সংগঠন ‘এবিআরএসএম’ (ABRSM)-এর তরফে ক্যাম্পাসে স্থায়ী পুলিশ আউটপোস্ট তৈরির দাবি উঠলেও তা সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন উপাচার্য।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *