মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনায় অগ্নিমূল্য জ্বালানি তেল!
বার্তা ডেস্কঃ
আমেরিকার কঠোর আর্থিক নিষেধাজ্ঞার খড়্গ এবং কড়া হুঁশিয়ারির জবাবে পাল্টা ‘ধ্বংসাত্মক’ পদক্ষেপের হুমকি দিয়েছে ইরান। প্রায় ছয় মাস ধরে চলা আমেরিকা-ইজরায়েল ও ইরান সংঘাতে উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য। এই আবহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন তেহরানের ওপর ইতিহাসের সবচেয়ে কঠোর আর্থিক বিধিনিষেধ আরোপের পরিকল্পনা করছে, যা নিশ্চিত করেছেন মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট। ওয়াশিংটনের মূল কৌশল হলো অর্থনৈতিক চাপ বাড়িয়ে ইরানের বর্তমান নেতৃত্বকে কোণঠাসা করা। অন্যদিকে, ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ মেজর জেনারেল আলি আবদোল্লাহি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, যেকোনো পরিস্থিতির জন্য তেহরান সম্পূর্ণ প্রস্তুত এবং মার্কিন হুমকির যোগ্য ও কড়া জবাব দেওয়া হবে।
দুই শীর্ষশক্তির এই হুঙ্কার ও পাল্টা হুঙ্কারের প্রত্যক্ষ নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বিশ্ব অর্থনীতিতে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের পরিবহণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বিশ্বজুড়ে তেলের জোগান নিয়ে তীব্র অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ফলে শুক্রবার আন্তর্জাতিক বাজারে এক লাফে তেলের দাম অনেকটা বেড়ে গিয়েছে; যেখানে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি ৯৪.৩৯ ডলারে পৌঁছেছে এবং ডব্লুটিআই ক্রুডের দাম দাঁড়িয়েছে ৮৭.০৬ ডলারে। ওয়াশিংটনের ট্রাম্প প্রশাসন হরমুজ প্রণালীর ওপর তাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের দাবি করলেও, চুক্তি নিয়ে কোনো সুরাহা না হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নিচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে এভাবে জ্বালানি তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী হতে থাকলে খুব শীঘ্রই ভারতের ঘরোয়া বাজারেও পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।