রাম কেন দিনের আলোয় আর কৃষ্ণ কেন গভীর রাতে?
বার্তা ডেস্কঃ
হিন্দুধর্মে ভগবান শ্রীরাম ও শ্রীকৃষ্ণকে ভগবান বিষ্ণুর অন্যতম প্রধান দুই অবতার বলে গণ্য করা হয়। দুজনেই পাপ বিনাশ ও ধর্ম প্রতিষ্ঠার জন্য মর্ত্যে এসেছিলেন। তবে তাঁদের জন্মকথা যেমন ভিন্ন, তেমনই ভিন্ন ছিল তাঁদের জন্মসময়—রামের জন্ম হয়েছিল ঠিক দুপুরে, আর কৃষ্ণ আবির্ভূত হয়েছিলেন গভীর রাতে।
কৃষ্ণের জন্ম কেন মধ্যরাতে? শ্রীকৃষ্ণের জন্ম ভাদ্রপদের কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে, রোহিনী নক্ষত্রে। মথুরার রাজা কংসের কারাগারে দেবকী ও বসুদেবের কোলে গভীর রাতে তাঁর আগমন ঘটে। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, মধ্যরাত হলো ঘোর অন্ধকারের প্রতীক। পৃথিবীতে যখনই অধর্ম ও অজ্ঞতার অন্ধকার চরম রূপ নেয়, তখনই ঈশ্বরের ঐশ্বরিক আলোর আগমন ঘটে। তাই কৃষ্ণের মধ্যরাতের জন্ম মূলত অধর্মের ওপর ধর্মের বিজয়ের প্রতীক। ধর্মগ্রন্থে এই সময়কে ‘নিষিক্ত কাল’ বা মধ্যরাতের বিশেষ মুহূর্ত বলা হয়েছে।
রামের জন্ম কেন দুপুর ১২টায়? ভগবান রাম চৈত্র মাসের শুক্লপক্ষের নবমী তিথিতে, পুনর্বসু নক্ষত্র ও কর্কট লগ্নে জন্মগ্রহণ করেন। রাম ছিলেন সূর্যবংশের সন্তান। তাই মধ্যাহ্নে সূর্যের সর্বোচ্চ উজ্জ্বলতা ও তেজকে তাঁর জন্মমুহূর্ত হিসেবে ধরা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। দুপুর হলো আলো, সত্য ও শক্তির প্রতীক, যা রামের ‘মর্যাদা পুরুষোত্তম’ রূপকে প্রতিফলিত করে। এছাড়া, রামের জন্মসময়টি শুভ ‘অভিজিৎ মুহূর্ত’-এর অন্তর্ভুক্ত।
দুই অবতারের মূল বার্তা রাক্ষসরাজ রাবণের অত্যাচার থেকে পৃথিবীকে রক্ষা করতে ভগবান বিষ্ণু অযোধ্যার রাজা দশরথ ও কৌশল্যার পুত্র রাম হিসেবে জন্ম নেন এবং সত্য ও ধর্মের আদর্শ স্থাপন করেন। অন্যদিকে, কংসের অত্যাচার ও গভীর অধর্মের মাঝে আলো জ্বালাতে কৃষ্ণের আবির্ভাব ঘটে। সংক্ষেপে, রামের দুপুরের জন্ম স্পষ্ট আলো ও সততার প্রতীক, আর কৃষ্ণের রাতের জন্ম হলো ঘোর অন্ধকারের মাঝে আশা ও ঐশ্বরিক আলোর প্রতীক।