অন্নপূর্ণা যোজনায় ব্যাপক দুর্নীতি, ক্ষোভের আগুনে জ্বলছে রাজ্য!
August 22, 2026
বার্তা ডেস্কঃ
রাজ্যজুড়ে বিডিও অফিস, জেলাশাসকের দপ্তর থেকে শুরু করে মন্ত্রীদের বাড়ির সামনে পর্যন্ত আছড়ে পড়ছে মহিলাদের বিক্ষোভের তরঙ্গ। কারণ একটাই—অন্নপূর্ণা যোজনার প্রতিশ্রুত ৩,০০০ টাকা না পাওয়া। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে চালু হওয়া ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এ মহিলারা প্রতি মাসে ১,৫০০ থেকে ১,৮০০ টাকা পেতেন। তার চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ অর্থ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসেই ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ চালু করেছিল বিজেপি সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু সরকারের দাবি অনুযায়ী, ইতিমধ্যে ১ কোটি ৪৫ লক্ষ মহিলা এই সুবিধা পাচ্ছেন এবং এতে রাজ্যের খরচ হচ্ছে প্রায় ৪,৫০০ কোটি টাকা। কিন্তু এত বড় আর্থিক বরাদ্দের পরেও কেন যোগ্য মহিলারা বঞ্চিত?
রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিশ্লেষকরা বিজেপির এই নতুন সরকারের ৬টি বড় ভুলকে চিহ্নিত করেছেন:
- সাংগঠনিক দুর্বলতা: ১০ বছর ক্ষমতায় থাকার পর তৃণমূল যখন লক্ষ্মীর ভাণ্ডার এনেছিল, তখন পাড়ায় পাড়ায় তাদের সক্রিয় ক্যাডাররা ফর্ম পূরণে সাধারণ মানুষকে সাহায্য করেছিল। বিজেপির সেই স্তরের সাংগঠনিক পরিকাঠামো না থাকায়, তারা সম্পূর্ণরূপে সরকারি কর্মীদের ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হয়েছে।
- জটিল নিয়ম ও ডিজিটাল বাধা: অনলাইন ফর্ম পূরণ, নথি যাচাইকরণ এবং আয়ের কড়া শর্তাবলীতে প্রান্তিক মহিলারা চরম বিপাকে পড়েছেন। স্থানীয় স্তরে বিজেপির দলীয় সহায়তার অভাবে এই জটিলতা আরও বাড়ে।
- তড়িঘড়ি বাস্তবায়ন: মে মাসে ক্ষমতায় এসে জুন মাস থেকেই টাকা দেওয়া শুরু করে বিজেপি সরকার। বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজনৈতিক চমক না দিয়ে অন্তত ৬ মাস সময় নিয়ে নথিপত্র যাচাই করলে এই চরম বিশৃঙ্খলা এড়ানো যেত।
- ভুল তালিকা ও স্বজনপোষণ: প্রশাসনিক গাফিলতির কারণে প্রকৃত ‘যোগ্য’ মহিলারা টাকা পাননি, অথচ অগুনতি অযোগ্য আবেদনকারী ভাতা পাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
- দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অভাব: কেবল অনুদান না দিয়ে মহিলাদের স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মাধ্যমে ঋণ, প্রশিক্ষণ ও ক্ষুদ্র ব্যবসার সুযোগ তৈরি করা উচিত ছিল। কেন্দ্রের ‘লাখপতি দিদি’-র মতো ফলপ্রসূ প্রকল্পগুলি চালুর ওপর নজর দেয়নি নতুন সরকার।
- প্রশাসনিক দক্ষতার অভাব: যাচাই প্রক্রিয়া সংশোধন না করে চাপের মুখে পড়ে এলোমেলোভাবে টাকা বণ্টন করায় প্রশাসনিক চরম ব্যর্থতা ফুটে উঠেছে।