শিশুর সর্দি-কাশিতে কাফ সিরাপ দিচ্ছেন? ৪ বছরের কম বয়সিদের ক্ষেত্রে জানুন কেন্দ্রের বড় নিষেধাজ্ঞা!

বার্তা ডেস্কঃ

কলকাতা: শিশুর সর্দি-কাশি বা নাক বন্ধ হলেই কি নিজের সিদ্ধান্তে কাফ সিরাপ খাইয়ে দিচ্ছেন? সাবধান! আপনার এই অভ্যাস শিশুর স্বাস্থ্য ও জীবনের জন্য মারাত্মক বিপদ ডেকে আনতে পারে। ছোট শিশুদের সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে সর্দি-কাশির ওষুধে এ বার আরও কড়া বিধিনিষেধ আরোপ করল কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক। চার বছরের কম বয়সি শিশুদের ক্ষেত্রে ক্লোরফেনিরামাইন ম্যালিয়েট (CPM) এবং ফিনাইলএফ্রিন (PE)-যুক্ত সব ধরনের ফিক্সড ডোজ় কম্বিনেশন (FDC) বা সর্দি-কাশির সিরাপের উৎপাদন, বিক্রি ও বণ্টনে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা (CDSCO) ১৯৬০ সালের ড্রাগস অ্যান্ড কসমেটিকস অ্যাক্টের ২৬এ ধারা অনুযায়ী জনস্বার্থে এই নির্দেশিকা জারি করেছে। শনিবার প্রকাশিত এই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ওষুধের লেবেল, প্যাকেটের ইনসার্ট ও বিজ্ঞাপনে স্পষ্ট করে লিখে দিতে হবে— ৪ বছরের কম বয়সিদের জন্য এই ওষুধ বা কম্বিনেশন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

কেন এই কঠোর সিদ্ধান্ত? বাজারের প্রচলিত সর্দি-কাশির ওষুধের প্রায় ৯৫ শতাংশতেই এই দুই যৌগ ব্যবহার করা হয়। এর মধ্যে সিপিএম (CPM) মূলত অ্যান্টি-অ্যালার্জিক হিসেবে কাজ করে হাঁচি ও কাশি কমায় এবং পিই (PE) নাকের বন্ধ ভাব দূর করে। তবে চিকিৎসকদের মতে, এই উপাদান দুটি ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে অত্যন্ত বিপজ্জনক:

  • সিপিএম (CPM): অতিরিক্ত ব্যবহারে মারাত্মক স্নায়বিক সমস্যা ও অতিরিক্ত ঝিমুনি তৈরি করতে পারে।
  • পিই (PE): দ্রুত হৃদস্পন্দনসহ হৃদযন্ত্রের জটিলতা তৈরি করতে পারে। আন্তর্জাতিক সমীক্ষা ও জার্নালে দেখা গিয়েছে, ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে ভুল মাত্রা বা একাধিক ওষুধের কারণে খিঁচুনি ও হৃদরোগ সংক্রান্ত মারাত্মক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। ড্রাগস টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজ়রি বোর্ড (DTAB) ও বিশেষজ্ঞ কমিটির দীর্ঘ পর্যালোচনার পরেই এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

অভিভাবকদের করণীয় কী? চিকিৎসকদের মতে, শিশুদের সাধারণ সর্দি-কাশি অধিকাংশ ক্ষেত্রেই স্বতঃস্ফূর্তভাবে সেরে যায়। তাই অযথা ওষুধ না খাইয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

ক্লিনিক্যাল ফার্মাকোলজির বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক শাম্বসম্রাট সমাজদার সতর্ক করে বলেছেন, “৪ বছরের বেশি বয়স হলেই যে এই ওষুধ নির্বিচারে দেওয়া যাবে, তা নয়। ব্র্যান্ডের নামের চেয়ে ওষুধের উপাদান জানা বেশি জরুরি। অযথা বা অপ্রয়োজনীয় ওষুধ এড়িয়ে ডাক্তার দেখানোই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।”

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, শিশুর নাক বন্ধে স্যালাইন ড্রপ, পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং প্রচুর তরল খাবার দেওয়া যেতে পারে। জ্বর বা অন্যান্য সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের কাছে গিয়ে শিশুর বয়স ও ওজন অনুযায়ী সঠিক ওষুধ নেওয়াই একমাত্র নিরাপদ পথ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *