জলবোমার তাণ্ডবে তছনছ নেপাল! নিখোঁজ ১০০০, ভয়াবহ বিপর্যয়ে কাঁপছে হিমালয়।
বার্তা ডেস্কঃ
কাটমান্ডু: হিমালয়ের বুকে প্রকৃতির প্রলয়ংকরী রূপ! নীল আকাশ আর রোমাঞ্চকর পাহাড়ি পরিবেশের মাঝেই আচমকা নেমে এলো ভয়াবহ বিপর্যয়। নেপালে প্রায় ২ হাজার ফুট চওড়া একটি প্রকাণ্ড হিমবাহ ভেঙে পড়ার জেরে সৃষ্টি হওয়া জলবোমার প্রবল স্রোতে তছনছ হয়ে গেছে একাধিক এলাকা। এই আকস্মিক দুর্যোগে নিখোঁজ হয়েছেন অন্তত ৩০০ জন ভারতীয় পর্যটক।
নেপালের বিদেশমন্ত্রী শিশির খানাল জানিয়েছেন, এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় সব মিলিয়ে নিখোঁজের সংখ্যা ১,০০০ ছাড়িয়ে গেছে। নিখোঁজদের মধ্যে যেমন স্থানীয় অধিবাসীরা রয়েছেন, তেমনই রয়েছেন ৫০০-রও বেশি বিদেশি পর্যটক, যাদের সাথে এখনও কোনো যোগাযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয়নি। পরিস্থিতি সামাল দিতে নেপাল সরকার আন্তর্জাতিক স্তরে বিভিন্ন দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাথে জরুরি যোগাযোগ শুরু করেছে।
যেভাবে ঘটল এই মহাবিপর্যয়: প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১৭,০০০ ফুট উঁচুতে সামান্য ৪.৪ মাত্রার একটি মৃদু ভূমিকম্প হয়। সেই কম্পনের অভিঘাতেই ঘটে চরম বিপত্তি। প্রায় ২,০০০ ফুট বিস্তৃত হিমবাহের বিশালাকার অংশ আলগা হয়ে সোজা ৪,০০০ ফুট নিচে ভেঙে পড়ে। বরফ, জল, কাদা এবং প্রকাণ্ড বোল্ডার একত্রিত হয়ে মুহূর্তে এক বিধ্বংসী ‘জলবোমা’ তৈরি করে। পাহাড়ি ঢাল বেয়ে সেই ধ্বংসাত্মক প্লাবন তীব্র গতিতে ধেয়ে এসে মুহূর্তের মধ্যে ভাসিয়ে নিয়ে যায় জনবসতি।
ভারত থেকে জরুরি ত্রাণ ও উদ্ধার অভিযান: বিপর্যয়ের খবর পেয়েই প্রতিবেশী রাষ্ট্র হিসেবে দ্রুত সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে ভারত। নেপাল সরকার নিশ্চিত করেছে যে ভারতের পাঠানো জরুরি ত্রাণ সামগ্রী ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে এবং তা ব্যবহার করে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজ চালানো হচ্ছে।
পাহাড়ি উপত্যকার অত্যন্ত দুর্গম ভৌগোলিক পরিস্থিতির কারণে উদ্ধারকর্মীদের কাজ চালাতে মারাত্মক বেগ পেতে হচ্ছে। এদিকে সময় গড়াচ্ছের সাথে সাথে নিখোঁজ ভারতীয়দের পরিবারগুলোতে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা তীব্রতর হচ্ছে।