ইনফ্লুয়েঞ্জা নিয়ে এই ভুলগুলো করছেন না তো? অজান্তেই ডেকে আনছেন বড় বিপদ!

বার্তা ডেস্কঃ

দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ইনফ্লুয়েঞ্জা এ (H1N1)-এর সংক্রমণ বাড়ায় জ্বর, কাশি বা দুর্বলতা দেখা দিলেই বহু মানুষ পুরনো অভ্যাসমতো অ্যান্টিবায়োটিকের দিকে ঝুঁকছেন। চিকিৎসকদের মতে, এটি একটি মারাত্মক ভুল ধারণা। H1N1 আদতে একটি ভাইরাসঘটিত সংক্রমণ, অথচ অ্যান্টিবায়োটিক তৈরি হয় নির্দিষ্টভাবে ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধের জন্য। ফলে ভাইরাসের বিরুদ্ধে এই ওষুধের কোনও কার্যকারিতাই নেই। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)-ও স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, ব্যাকটেরিয়াজনিত সহ-সংক্রমণের আশঙ্কা কম থাকলে মৃদু ইনফ্লুয়েঞ্জায় আক্রান্ত রোগীদের অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া উচিত নয়। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এই ওষুধ খেলে দ্রুত সুস্থ হওয়া তো যায়ই না, উল্টে বমি ভাব, ডায়রিয়া, পেটে অস্বস্তি, মাথা ঘোরা এমনকি অ্যালার্জির মতো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি বহুলাংশে বেড়ে যায়।

ইন্ডিয়ান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (আইএমএ) জানিয়েছে, মৌসুমী ইনফ্লুয়েঞ্জায় অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার আসলে ওষুধের অপব্যবহার, যা শরীরে স্বাভাবিক ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য নষ্ট করে এবং ভবিষ্যতে অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরির পথ প্রশস্ত করে। তবে এর অর্থ এই নয় যে H1N1 আক্রান্তদের কখনওই অ্যান্টিবায়োটিকের প্রয়োজন হয় না। কিছু ক্ষেত্রে ব্যাকটেরিয়াজনিত নিউমোনিয়ার মতো সেকেন্ডারি সংক্রমণ দেখা দিলে চিকিৎসকরা অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগ করেন, যা ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের চিকিৎসায় নয় বরং সহ-সংক্রমিত ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধেই কাজ করে। সাধারণ ফ্লুয়ের ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত বিশ্রাম, জলপান এবং চিকিৎসকের পরামর্শে অ্যান্টিভাইরাল ওষুধই যথেষ্ট। শ্বাসকষ্ট বা বুকে ব্যথার মতো গুরুতর উপসর্গ দেখা দিলে নিজে থেকে ওষুধ না খেয়ে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *