মৃত্যুর মুখ থেকে মিরাকেল! ধ্বংসস্তূপ ফুঁড়ে বাঁচলেন ৯৭ বছরের বৃদ্ধা
বার্তা ডেস্কঃ
নেপালের প্রলয়ংকরী হড়পা বানে বিধ্বস্ত এক কেয়ার হোমের ধ্বংসস্তূপ থেকে অলৌকিকভাবে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে ৯৭ বছরের এক বৃদ্ধাকে। দীর্ঘ চার ঘণ্টার টানা রুদ্ধশ্বাস উদ্ধার অভিযান শেষে গুনা মায়া বোহারা নামের ওই বৃদ্ধাকে নিরাপদে বের করে আনা সম্ভব হয়। তিনি বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। দাদির এই অলৌকিক বেঁচে ফেরাকে যুদ্ধের ময়দান থেকে বিজয়ী বীরের মতো প্রত্যাবর্তন বলেই মনে করছেন তাঁর নাতি দীপক বোহারা।
বুধবার হিমালয় সীমান্ত অঞ্চলে হিমবাহ ধসের কারণে এই ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়, যাতে নেপাল ও তিব্বত জুড়ে শতাধিক মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে এবং নিখোঁজ রয়েছেন বহু মানুষ। বন্যার প্রবল স্রোতে কাঠমান্ডু ও তিব্বতের লসার সংযোগকারী প্রধান সড়ক, একাধিক সেতু ও বিদ্যুৎ লাইন সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। দুর্যোগের কারণে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় অনেক এলাকায় কেবল হেলিকপ্টারেই পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে। এ পর্যন্ত ৩,৭০০ জনেরও বেশি মানুষকে উদ্ধার করা হলেও প্রতিকূল আবহাওয়া ও নদীর উজানে কৃত্রিম হ্রদ তৈরি হওয়ায় উদ্ধারকাজ বারবার ব্যাহত হচ্ছে।
এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে আন্তর্জাতিক তীর্থযাত্রী ও পর্যটকরাও বড় বিপদে পড়েছেন। বিশেষ করে তিব্বতের পবিত্র কৈলাশ পর্বত ও মানস সরোবরগামী রুটটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় প্রায় ৩২০ জন ভারতীয় নাগরিকের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ভারত সরকারের পক্ষ থেকে ত্রাণবাহী বিমান, বিশেষ উদ্ধারকারী দল ও প্রিফ্যাব্রিকেটেড সেতু পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে চিনা ভূখণ্ডের জিরং কাউন্টি থেকেও শতাধিক পর্যটকসহ এক হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।