২২,০০০ কোটির ঋণ মকুব কি ভুয়ো? সত্য জানতে এবার সুর চড়ালেন সুভাষ চন্দ্র!
বার্তা ডেস্কঃ
২২ হাজার কোটি টাকার ঋণ মকুব নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্কের তীব্র প্রতিবাদ জানালেন এসেন্স (এসেল) গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা সুভাষ চন্দ্র। তাঁর দাবি, একটি বিশেষ গোষ্ঠী উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চক্রান্ত করছে। আসল সত্য সবার সামনে আনতে তিনি এবার বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে অডিট বা হিসাব পরীক্ষার দাবি জানিয়েছেন।
সুভাষ চন্দ্র জানান, তাঁদের গ্রুপের মোট ৪৫,০০০ কোটি টাকার ঋণের মধ্যে প্রায় ৪৩,০০০ কোটি টাকাই ইতিমধ্যে ব্যাংকগুলোকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই পুরো পরিশোধ প্রক্রিয়া কতটা স্বচ্ছ ছিল এবং কোথায় কতটুকু খেলাপি হয়েছে, তা স্পষ্টভাবে যাচাই করতে তিনি কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন ও ব্যাংক কর্তৃপক্ষের কাছে একজন স্বাধীন অডিটর নিয়োগের আবেদন জানিয়েছেন।
সংস্থার আর্থিক সংকট নিয়ে বলতে গিয়ে তিনি জানান, ২০১৯ সালের জানুয়ারি মাসে সম্পদ ও দেনার মধ্যে চরম ভারসাম্যহীনতা তৈরি হওয়ায় গ্রুপটি বড় সংকটে পড়ে। সেই সময় তিনি ব্যাংকিং ব্যবস্থার কাছে খোলা চিঠি লিখে ভুল স্বীকার করেন এবং সমস্ত পাওনা মিটিয়ে দেওয়ার অঙ্গীকার করেন। সেই কথা রাখতে গিয়ে তিনি পরিবারের প্রায় সমস্ত ব্যক্তিগত সম্পত্তি এমনকি নিজের বসবাসের বাড়ি পর্যন্ত বিক্রি ও বন্ধক রাখতে বাধ্য হন। পরিস্থিতি সামলাতে জি (Zee)-র শেয়ার বিক্রি করা হয়েছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি জানান, বর্তমানে মোট ঋণের মধ্যে মাত্র ২,০০০ কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে। পরিকাঠামো বা ইনফ্যাস্ট্রাকচার সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রকল্পে রাজ্য সরকারগুলোর থেকে সময়মতো পাওনা না পাওয়ার কারণেই এইটুকু জটিলতা তৈরি হয়েছে। তবে দ্রুতই বাকি সম্পদ বিক্রি করে এই সম্পূর্ণ দেনা পরিশোধ করা হবে।
এনসিএলটি (NCLT)-র সাম্প্রতিক পদক্ষেপ প্রসঙ্গে সুভাষ চন্দ্র স্পষ্ট করেন, এই আইনি প্রক্রিয়াটি তাঁর নিজস্ব ঋণের জন্য নয়, বরং বিভিন্ন ব্যাংকে দেওয়া ব্যক্তিগত গ্যারান্টি সংক্রান্ত বিষয়ের সঙ্গে যুক্ত। তিনি জানান, ইতিমধ্যে প্রায় ৬২০ কোটি টাকার দাবি মেটানো হয়েছে। যদিও সম্প্রতি NCLT ২২,০০৬ কোটি টাকার মোট পাওনার বিপরীতে সাড়ে ছয় কোটি টাকার একটি পেমেন্ট প্ল্যান অনুমোদন করেছে, যার বিরুদ্ধে এইচডিএফসি (HDFC) ব্যাংক আদালতের দ্বারস্থ হচ্ছে।