১৫,০০০ ফুট উঁচুতে জীবনসংগ্রাম, হিমাচলের রহস্যময় গ্রামের রোমাঞ্চকর সত্যি!
বার্তা ডেস্কঃ
সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৫,০০০ ফুট উঁচুতে অবস্থিত হিমাচল প্রদেশের স্পিতি উপত্যকার ‘কমিক’ গ্রাম। একে ভারতের সর্বোচ্চ এবং বিশ্বের অন্যতম উঁচুতে থাকা জনপদ বলা হয়। সম্প্রতি ভ্লগার কনিষ্ক গুপ্তের একটি ভিডিওর মাধ্যমে এই গ্রামের অবিশ্বাস্য জীবনযাত্রার খবর প্রকাশ্যে আসে, যা ইউটিউবে ৪ মিলিয়নেরও বেশি মানুষ দেখে ফেলেছেন।
অক্সিজেনের ঘাটতিতেও প্রাণবন্ত জীবন: কমিক গ্রামে পৌঁছানোর পর ভ্লগারের শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা কমে ৮০%-এ নেমে যায়। সমতলে এমন অবস্থায় ভেন্টিলেশনের প্রয়োজন হলেও, এই প্রতিকূল পরিবেশে কমিকের মানুষ বংশপরম্পরায় স্বাভাবিকভাবে বেঁচে আছেন। বিজ্ঞানের মতে, অতিরিক্ত লোহিত রক্তকণিকা (RBC) থাকার কারণে কম অক্সিজেনেও তাঁরা স্বাভাবিকভাবে চাষবাস ও পাহাড় চড়ার মতো কঠোর পরিশ্রম করতে পারেন।
চরম ঠান্ডায় টিকে থাকার অদ্ভুত উপায়:
- প্রাকৃতিক ঘরবাড়ি: তাপমাত্রা মাইনাসে নামলে ঘর গরম রাখতে ২ ফুট পুরু মাটির দেয়াল তৈরি করা হয়। ঘরের বাইরে সাদা রং দেওয়া থাকে সূর্যরশ্মি প্রতিফলনের জন্য।
- বিকল্প জ্বালানি ও শৌচাগার: গাছপালা না থাকায় ঘর গরম রাখা ও রান্নার কাজে শুকানো পশুবর্জ্য ব্যবহার করা হয়। শীতে জল জমে যাওয়ায় শুকনো শৌচাগার ব্যবহার করা হয়, যা পরবর্তীতে জৈব সারে রূপ নেয়।
- পশুপাখির সুরক্ষা: রাতের তীব্র শীতে গবাদি পশুদের ঘরের ভেতরেই স্থান দেওয়া হয়।
- জমে না যাওয়া জল: বরফশীতল আবহাওয়া সত্ত্বেও ভূগর্ভস্থ হিমবাহের এক বিশেষ প্রবাহ থেকে তাঁরা পানের জল পান, যা শীতেও জমে যায় না।
অন্যান্য বিস্ময়কর তথ্য: এখানকার স্থানীয় খাবার ‘চিরুল’ (যবের ছাতু, ঘি, পনির ও চিনির মিশ্রণ) শরীরকে তাৎক্ষণিক শক্তি দেয়। কমিকের কাছেই ‘লাংজা’ গ্রামে আজও কোটি বছর পুরোনো সামুদ্রিক জীবাশ্ম পাওয়া যায়, যা প্রমাণ করে যে একসময় এখানে টেথিস সাগর ছিল। এছাড়া পার্শ্ববর্তী ‘হিক্কিম’ গ্রামে রয়েছে বিশ্বের সর্বোচ্চ ডাকঘর, যা কোনো মোবাইল নেটওয়ার্ক ছাড়াই দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে চিঠি আদান-প্রদান করে আসছে। মাত্র ১৩-১৪টি পরিবার নিয়ে গড়ে ওঠা এই গ্রামের পরিবেশ যেমন কঠিন, বাসিন্দাদের পারস্পরিক বন্ধন তেমনই সুদৃঢ়।