সব ধর্মের লক্ষ্য এক, মুসলিমদের তাড়ানো হিন্দুত্ব নয়!

বার্তা ডেস্কঃ

উপাসনা বা আচার-অনুষ্ঠান আলাদা হলেও সব ধর্মের মূল লক্ষ্য এক—সত্যের সন্ধান এবং মানবতার কল্যাণ। আমেরিকার নিউ ইয়র্কে আয়োজিত ‘এক বিশ্ব, এক মানবতা’ শীর্ষক একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে ঠিক এই বার্তাই দিলেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের (RSS) প্রধান মোহন ভগবত। তাঁর স্পষ্ট কথা, “ভারতের মুসলমানদের তাড়িয়ে দেওয়া কখনোই হিন্দুত্ব হতে পারে না।”

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে আরএসএস প্রধান বলেন, “বিশ্বের বিভিন্ন ধর্মের নিজস্ব নিয়মকানুন ও উপাসনার পদ্ধতি রয়েছে। তবে এই বাহ্যিক পার্থক্যের গভীরে যে মূল সত্যটি লুকিয়ে রয়েছে, তা অভিন্ন। আর সেই পরম সত্য থেকেই জন্ম নেয় মানবতা।”

দৃশ্যপট আলাদা হলেও সত্য একই

নিজের পশুচিকিৎসক জীবনের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে মোহন ভগবত বিষয়টি সহজভাবে বুঝিয়ে বলেন, “মানুষ অনেক ধরনের রং দেখতে পায়, কিন্তু একটি কুকুর তত রং দেখতে পায় না। তাই বলে কুকুরের দেখা জগৎটা মিথ্যা নয়, সেটাই তার কাছে বাস্তব। মানুষও নিজের অভিজ্ঞতা ও ইন্দ্রিয়ের সীমাবদ্ধতার মধ্য দিয়েই পৃথিবীকে বোঝে। ফলে দৃষ্টিভঙ্গি আলাদা হলেও মূল সত্য বদলে যায় না।”

‘আঙুল নয়, আলোর দিকে তাকান’

ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানকে রূপকের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, “কেউ যদি আঙুল দিয়ে দূর আকাশের আলোর দিকে নির্দেশ করেন, তবে মানুষ প্রথমে আঙুলটির দিকেই তাকায়। কিন্তু কেউ যদি সারাক্ষণ সেই আঙুলের দিকেই তাকিয়ে বসে থাকে, তবে আসল আলোটি আর তার দেখা হবে না।” তাঁর মতে, ধর্মীয় আচার ও নিয়মকানুন হলো সেই নির্দেশক আঙুলের মতো, যা মানুষকে পরম সত্যের পথ দেখায়। কিন্তু মূল উদ্দেশ্য ভুলে শুধু আচার-অনুষ্ঠান নিয়ে ব্যস্ত থাকলে আসল সত্যের সন্ধান অধরাই থেকে যায়।

আধুনিক বিজ্ঞান ও চেতনা

বক্তব্যের শেষে আধুনিক বিজ্ঞানের ‘চেতনা’ বা Consciousness-এর প্রসঙ্গ টেনে আনেন মোহন ভগবত। তিনি জানান, ধর্মের ভাষা আলাদা হতে পারে, কিন্তু মানুষের অস্তিত্ব, চেতনা এবং সত্যের সন্ধানের প্রশ্নটি চিরন্তন ও সর্বজনীন। তাই বাহ্যিক বিভেদ ভুলে মানবতা ও পরম সত্যের পথে হেঁটে চলাই প্রতিটি মানুষের মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *