পাকিস্তানে ১২৫ বছরের পুরনো হিন্দু মন্দির ধ্বংস, জবাব চাইল ভারত!

বার্তা ডেস্কঃ

পাকিস্তানে শতবর্ষের প্রাচীন একটি হিন্দু মন্দির ধ্বংসের ঘটনায় কড়া প্রতিক্রিয়া ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ভারত। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের (MEA) পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে লাহোরের নিকটবর্তী এই ঐতিহাসিক উপাসনালয়টি ভেঙে ফেলার ঘটনাকে চরম নিন্দনীয় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। দিল্লি অবিলম্বে এই ঘটনার একটি নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য ইসলামাবাদকে নির্দেশ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

ঘটনার বিবরণ ও পাকিস্তানের উদাসীনতা

প্রশাসনিক সূত্র অনুযায়ী, লাহোর থেকে প্রায় ১৩০ কিলোমিটার দূরে নারোওয়াল জেলার সিরাজ গ্রামে অবস্থিত ছিল ১২৫ বছরের প্রাচীন এই মন্দিরটি। স্থানীয় সংখ্যালঘু সংগঠনগুলির অভিযোগ, গত ২১ আগস্ট ঐতিহ্যবাহী মন্দিরটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রক জানিয়েছে, পাকিস্তানে সংখ্যালঘু ধর্মীয় স্থানগুলির সুরক্ষায় স্থানীয় প্রশাসন সম্পূর্ণ ব্যর্থ এবং তাদের এই উদাসীনতা অত্যন্ত উদ্বেগের।

মাদ্রাসার জমি সম্প্রসারণের অভিযোগ

স্থানীয় সংখ্যালঘু অধিকার রক্ষা গোষ্ঠী এবং পাকিস্তান মসিহা মিল্লাত পার্টির দাবি, পাশেই অবস্থিত একটি মাদ্রাসার জমি বড় করার উদ্দেশ্যে চক্রান্ত করে মন্দিরটি ভেঙে ফেলা হয়েছে। যদিও পাকিস্তানের ইভাকুই ট্রাস্ট প্রপার্টি বোর্ড (ETPB) এই অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছে যে, সাম্প্রতিক টানা বৃষ্টির ফলেই জীর্ণ অবকাঠামোটি ভেঙে পড়েছে। তবে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায় এই সাফাই মানতে নারাজ এবং তারা একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি তুলেছে।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কড়া বার্তা

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এ বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, এই ঘটনা পাকিস্তানে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তাহীনতার প্রমাণ। ভারত সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট দাবি জানানো হয়েছে:

  • ঘটনার দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্ত করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।
  • ক্ষতিগ্রস্ত মন্দিরটি দ্রুত পুনর্নির্মাণ ও সংস্কার করতে হবে।
  • পাকিস্তানের সংখ্যালঘু নাগরিকদের জীবন, সংস্কৃতি ও উপাসনালয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

পাকিস্তানে সংখ্যালঘুদের ধর্মীয় স্থান আক্রমণ বা তা দখল করার ঘটনা নতুন নয়। নারোওয়ালের এই ঘটনা আন্তর্জাতিক স্তরে ইসলামাবাদের সংখ্যালঘু সুরক্ষা নীতিকে আবারও প্রশ্নের মুখে দাঁড় করাল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *