উবারে বড় ধাক্কা, চাকরি হারাচ্ছেন ৩৩০০ কর্মী!
বার্তা ডেস্কঃ
বিশ্বজুড়ে বড়সড় সাংগঠনিক পরিবর্তনের পথে হাঁটছে জনপ্রিয় অ্যাপ-ক্যাব পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থা উবর। বিশ্বব্যাপী মোট কর্মীবাহিনীর প্রায় ১০ শতাংশ ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা, যার ফলে চাকরি হারাতে চলেছেন প্রায় ৩,৩০০ জন কর্মী। ২০২০ সালের করোনাকালের পর এটিকে উবরের সবচেয়ে বড় গণছাঁটাই হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সংস্থার সিইও দারা খোসরোশাহি কর্মীদের পাঠানো এক বার্তায় জানান, গত কয়েক বছরে উবরের দ্রুত বৃদ্ধির কারণে ম্যানেজমেন্টের অভ্যন্তরীণ কাঠামো অত্যন্ত জটিল হয়ে পড়েছে। এর ফলে সিদ্ধান্ত গ্রহণে অহেতুক বিলম্ব হচ্ছে। নতুন এই পুনর্গঠনের প্রধান উদ্দেশ্য হলো—প্রতিষ্ঠানের জটিলতা কমানো, সিদ্ধান্ত গ্রহণের গতি বাড়ানো এবং বাড়তি খরচ নিয়ন্ত্রণ করা। সিইও স্পষ্ট করেছেন যে, এই সিদ্ধান্তের পেছনে সরাসরি এআই (AI)-এর ভূমিকা না থাকলেও, সংস্থা চাইছে খরচ বাঁচিয়ে সেই অর্থ ভবিষ্যতের নতুন প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনে বিনিয়োগ করতে।
যেসব ক্ষেত্রে প্রধান পরিবর্তন আসছে:
- কঠোর ছাঁটাই নীতি: সিইও-র স্তরের নিচে থাকা সপ্তম বা তার পরবর্তী স্তরের কর্মীদের সংখ্যা প্রায় ২০ শতাংশ কমানো হবে।
- ছোট টিমের বিলোপ: যেসব টিমে মাত্র এক বা দুজন সরাসরি রিপোর্ট করেন, সেই ধরনের ছোট দলের সংখ্যা প্রায় ৫০ শতাংশ কমিয়ে একাধিক টিমকে একত্রিত করা হবে।
- অফিসে উপস্থিতি বাধ্যবাধকতা: ওয়ার্ক ফ্রম হোম বা সম্পূর্ণ রিমোট কাজের সুবিধা কমিয়ে মোট কর্মীবাহিনীর মাত্র ১ শতাংশে নামিয়ে আনা হবে। বাকিদের সপ্তাহে অন্তত তিন দিন সশরীরে অফিসে উপস্থিত হয়ে কাজ করতে হবে।
উবরের এই কৌশলগত পরিবর্তনের পেছনে বড় কারণ হলো চালকবিহীন গাড়ি বা ‘রোবোট্যাক্সি’ প্রযুক্তির বিকাশ। বর্তমানে ওয়েমো (Waymo) ও টেসলা (Tesla)-র মতো হেভিওয়েট সংস্থাগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে উবর তাদের সাংগঠনিক ব্যয় কমিয়ে স্বয়ংশালিত প্রযুক্তিতে বেশি মূলধন বরাদ্দ করতে চাইছে। উল্লেখ্য, গত বছরের হিসাব অনুযায়ী বিশ্বজুড়ে উবরের কর্মীসংখ্যা ছিল প্রায় ৩৪,০০০। চলতি এই সিদ্ধান্তের ফলে প্রায় ৩,৩০০ কর্মী ছাঁটাই হলে উবরের কর্মীব্যবস্থায় এক বিশাল পরিবর্তন আসবে।