পুরুলিয়ার মাটিতে কোটি টাকার গুপ্তধন, বাংলায় আসছে নতুন শিল্পবিপ্লব!
বার্তা ডেস্কঃ
নিজস্ব প্রতিনিধি: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত ‘গুপ্তধন’ গল্পের মতোই যেন এক অলৌকিক সন্ধান মিলল পুরুলিয়ার মাটিতে। মাটির নিচে লুকিয়ে থাকা বিপুল পরিমাণ বিরল খনিজ সম্পদের সন্ধান পেয়েছেন ভূতাত্ত্বিকরা। ভূতাত্ত্বিক অনুসন্ধান সংস্থা ‘জিএসআই’ (GSI) এবং ‘এএমডি’ (AMD)-র যৌথ গবেষণায় জানা গেছে, উত্তর পুরুলিয়ার ফাটল বা চ্যুতিরেখা (Shear Zone) ধরে রয়েছে এক মহামূল্যবান খনিজ ভাণ্ডার।
ঝাড়খণ্ড সীমানা সংলগ্ন ঝালদা-২ ব্লকের বেলামু পাহাড় থেকে শুরু করে নওয়াহাতু, কালাপাথর, রঘুডি, রঘুনাথপুর হয়ে বাঁকুড়ার ছাতনা এবং পুরুলিয়ার কাশীপুর পর্যন্ত ছড়িয়ে রয়েছে এই বিরল খনিজের উপস্থিতি। বিশেষজ্ঞরা এটিকে পুরো পূর্ব ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ভাণ্ডার হিসেবে গণ্য করছেন।
সংসদে একটি প্রশ্নের জবাবে কেন্দ্র সরকার জানিয়েছে, পুরুলিয়ার একটি নির্দিষ্ট ব্লকেই প্রায় ১.৭৮ লক্ষ টন আকরিক চিহ্নিত করা হয়েছে। এতে রয়েছে—
- ০.৪% সিজিয়াম (পারমাণবিক গবেষণা ও জিপিএস প্রযুক্তিতে ব্যবহৃত)
- ০.৩% লিথিয়াম (বৈদ্যুতিক গাড়ি, মোবাইল ও ল্যাপটপের ব্যাটারি তৈরিতে অপরিহার্য)
- ০.০১% রুবিডিয়াম
এছাড়া কালাপাথর-রঘুডি অঞ্চলে ল্যান্থানাইড ও ইট্রিয়ামসহ ১৬টি দুর্লভ ধাতুর উপস্থিতি পাওয়া গেছে, যেখানে প্রায় ৬.৭০ লক্ষ টন ‘রেয়ার আর্থ এলিমেন্ট’ (Rare Earth Elements) সঞ্চিত রয়েছে।
অর্থনৈতিক গুরুত্ব ও নিলাম: যোগাযোগ ব্যবস্থার দিক থেকে সড়ক, রেলপথ এবং রাঁচি বিমানবন্দর কাছে হওয়ায় এই খনিজ উত্তোলন অত্যন্ত লাভজনক হতে চলেছে। কেন্দ্র সরকার ইতিমধ্যেই এলাকাটি নিলামের (Auction) জন্য চিহ্নিত করেছে। জিএসআই বর্তমানে জি-২ (G-2) স্তরের আরও উন্নত অনুসন্ধান শুরু করেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতামত: পুরুলিয়ার সিধো-কানহো-বিরসা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোলের অধ্যাপক ও পরিবেশকর্মী বিশ্বজিৎ বেরা জানান, “এই খনিজ উত্তোলনের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গে এক নতুন শিল্পক্ষেত্র তৈরি হবে। ভারতের বিদেশী নির্ভরতা কমবে, রাজস্ব বাড়বে এবং স্থানীয় স্তরে প্রচুর কর্মসংস্থান তৈরি হবে।” তবে একই সাথে তিনি পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণের ওপর বিশেষ জোর দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, স্থানীয় গবেষক ও তরুণ প্রজন্ম আশা করছেন, এই প্রকল্পের ফলে স্থানীয় মেধাবী যুবক-যুবতীদের কর্মসংস্থানে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।