বিচারের মুখে ‘ভিকটিম কার্ড’, পাকিস্তানি স্ত্রীকে ডিভোর্সের নেপথ্যে ইয়াসিন মালিকের আসল চাল কী?

বার্তা ডেস্কঃ

১৯৯০ সালে শ্রীনগরে চার ভারতীয় বায়ুপোত অফিসারকে নৃশংস হত্যা এবং কাশ্মীরি পণ্ডিত কন্যা সরলা ভাটকে গণধর্ষণ ও খুনের মামলায় অভিযুক্ত জম্মু ও কাশ্মীর লিবারেশন ফ্রন্টের (JKLF) জেলবন্দি নেতা ইয়াসিন মালিক হঠাৎই তাঁর পাকিস্তানি স্ত্রী মুশাল হুসেনকে তালাক দেওয়ার ঘোষণা করেছেন। আদালতে বিচার চলাকালীন এই সিদ্ধান্তের পেছনে ইয়াসিনের যুক্তি, তিনি স্ত্রীকে বিধবা দেখতে চান না। তবে এই পদক্ষেপকে কঠোর সমালোচনা করেছেন শহীদ স্কোয়াড্রন লিডার রবি খান্নার স্ত্রী নির্মল খান্না। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, ইয়াসিন যাদের বিধবা করেছেন, তাদের দায় কে নেবে? একই সঙ্গে নিরস্ত্র স্বামীর শরীরে ২৮টি গুলি চালানো ঘাতক ইয়াসিনের দৃষ্টান্তমূলক ফাঁসির দাবি জানিয়েছেন তিনি।

এদিকে আদালতে বিচার প্রক্রিয়ায় আর লড়াই না করার কথা জানিয়ে নিজের ফাঁসির দাবি তোলার পাশাপাশি সরলা ভাট হত্যাকাণ্ডে নিজেকে নির্দোষ বলে দাবি করেছেন ইয়াসিন। ১৯৯০ সালের ওই সময়ে বিএসএফ তল্লাশির সময় ভবন থেকে পড়ে কোমায় থাকার মনগড়া অজুহাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সহানুভূতি কুড়ানোর চেষ্টা করছেন এই বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা। তবে বিজেপি মুখপাত্র দানিশ ভাটসহ একাধিক বিশেষজ্ঞের মতে, এটি শাস্তি থেকে বাঁচার উদ্দেশ্যে ইয়াসিনের মরিয়া ‘ভিকটিম কার্ড’ খেলার চেষ্টা মাত্র। বিচার এড়াতে ও নিজেকে অনুশোচনাহীন সন্ত্রাসীর বদলে এক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে জাহির করতেই তাঁর এই কূটনৈতিক কৌশল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *