বৈবাহিক ধর্ষণ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে কেন্দ্রের বিস্ফোরক যুক্তি, ভেঙে পড়বে বিয়ে ব্যবস্থা!
বার্তা ডেস্কঃ
September 10, 20268:33 pm
ভারতে নতুন করে তোলপাড় শুরু হয়েছে ‘ম্যারিটাল রেপ’ বা বৈবাহিক ধর্ষণের আইনি বিতর্ক নিয়ে। স্ত্রীর আসাম্মতিতে স্বামীর জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্ককে কি সরাসরি ‘ধর্ষণ’ হিসেবে গণ্য করা উচিত? এই অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও সামাজিক ইস্যুতে এখন সরগরম শীর্ষ আদালত। কেন্দ্র সরকার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, বৈবাহিক ধর্ষণকে অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করলে দেশের দীর্ঘদিনের চিরায়ত পারিবারিক ও সামাজিক কাঠামো ধসে পড়তে পারে।
আইনের বর্তমান সুরক্ষা ও জটিলতা ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-র ৬৩ নম্বর ধারায় ধর্ষণের সংজ্ঞা দেওয়া হলেও, এর ‘Exception-2’ (দ্বিতীয় অপবাদ) অনুযায়ী, স্ত্রীর বয়স ১৮ বছর বা তার বেশি হলে স্বামীর বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা দায়ের করা যায় না। অর্থাৎ, এই ধারায় স্বামীরা আইনি ছাড় পেয়ে থাকেন। এই সুরক্ষাকে অসাংবিধানিক ও নারীর মৌলিক অধিকারের বিরোধী দাবি জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে, যার চূড়ান্ত আইনি লড়াই এখন মাঝগগনে।
কেন বিরোধিতার পথে হেঁটেছে কেন্দ্র? সুপ্রিম কোর্টে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষে সলিসিটর জেনারেল স্পষ্ট করেন যে, নারীর সম্মতির গুরুত্ব অপরিসীম। তবে এই নির্দিষ্ট ধারা বাতিলের বিরোধিতা করার পেছনে সরকারের প্রধান যুক্তিগুলো হলো:
- পারিবারিক কাঠামোর ওপর প্রভাব: বিবাহ ব্যবস্থা কেবল দুটি মানুষের আইনি চুক্তি নয়; এটি পরিবার ও সামাজিক ব্যবস্থার ভিত্তি। সরাসরি ধর্ষণের মতো কঠোর অপরাধের ধারায় এটি আনলে দাম্পত্য ও পারিবারিক ব্যবস্থা মারাত্মক সংকটে পড়বে।
- অন্যান্য কড়া আইনের উপস্থিতি: নারীদের সুরক্ষায় দেশে ইতিমধ্যেই ‘গার্হস্থ্য হিংসা প্রতিরোধ আইন’ এবং নির্যাতন সংক্রান্ত একাধিক কড়া আইন রয়েছে। ফলে বিকল্প আইনি বিচার পাওয়ার সুযোগ খোলাই আছে।
- সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার সংসদের: এটি একটি বড় ধরনের সামাজিক ও নীতিগত সিদ্ধান্ত। আদালত নয়, আইনসভায় বিতর্কের মাধ্যমে এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার কেবল দেশের সংসদের রয়েছে।
আবেদনকারীদের পাল্টা অবস্থান অন্যদিকে মামলাকারীদের যুক্তি—বিবাহের তোড়ে কোনো নারী নিজের শারীরিক স্বাতন্ত্র্য বা ব্যক্তিস্বাধীনতা বিসর্জন দেন না। জাতীয় পরিবার স্বাস্থ্য সমীক্ষা (NFHS-5)-র পরিসংখ্যানের কথা উল্লেখ করে তাঁদের দাবি, পারিবারিক সম্পর্কের অজুহাতে নারীকে সব ধরনের নির্যাতন থেকে আইনি সুরক্ষা না দেওয়া মানবাধিকারের পরিপন্থী।
একদিকে নারীর শরীরের ওপর নিজের অধিকার ও ব্যক্তিস্বাধীনতা, অন্যদিকে ঐতিহ্যবাহী পারিবারিক কাঠামোর স্থায়িত্ব—এই দুইয়ের ভারসাম্য বজায় রেখে সুপ্রিম কোর্ট শেষ পর্যন্ত কী ঐতিহাসিক রায় দেয়, সেদিকেই তাকিয়ে গোটা দেশ।