খসড়া ছাড়াই ডিলিমিটেশন? বিরোধীদের বয়কটে উত্তাল সর্বদল বৈঠক!
বার্তা ডেস্কঃ
September 12, 20268:33 am
কলকাতা: কলকাতা পুরসভার ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস (ডিলিমিটেশন) প্রক্রিয়া ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে বিতর্ক তীব্র আকার ধারণ করেছে। সম্প্রতি খসড়া প্রস্তাব আলোচনার জন্য পুরসভার তরফে সর্বদল বৈঠক ডাকা হলেও, বৈঠক বয়কট করে বেরিয়ে আসেন বিরোধী নেতারা। তাঁদের অভিযোগ, ডিলিমিটেশন সংক্রান্ত শুনানির প্রস্তাবিত খসড়ার কোনো প্রতিলিপি বিরোধীদের দেখায়নি পুর-কর্তৃপক্ষ।
সর্বদল বৈঠক ও পাল্টা বক্তব্য: বৈঠক বর্জন করে বামফ্রন্টের প্রতিনিধি তথা আরএসপি-র কলকাতা জেলা কমিটির সম্পাদক দেবাশিস মুখোপাধ্যায় বলেন, “বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির চোখে ধুলো দিতেই এই বৈঠকের নাটক করা হয়েছিল। ডিলিমিটেশন নিয়ে পুর-কর্তৃপক্ষ পুরোপুরি একতরফা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ফলে এই বৈঠকের কোনো অর্থ হয় না।”
অন্যদিকে, পুর-কমিশনার স্মিতা পান্ডে জানান, আইনি ও আদালতের কাজ সেরে তাঁর পৌঁছাতে কিছুটা দেরি হয়েছিল। তিনি আসার আগেই বিরোধীরা ওয়াকআউট করায় মূল বৈঠকটি হতে পারেনি। তবে পুর-কর্তৃপক্ষের দাবি, ডিলিমিটেশনের শুনানি সংক্রান্ত যাবতীয় নথিপত্র ইতিমধ্যেই নগরোন্নয়ন দপ্তরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।
বিরোধীদের মূল অভিযোগসমূহ:
- একই পার্ট একাধিক ওয়ার্ডে: কাশীপুর–বেলগাছিয়া, বেলেঘাটা, এন্টালি, বালিগঞ্জ, ভবানীপুর, বেহালা পশ্চিম ও যাদবপুর বিধানসভার ৩০টিরও বেশি পার্ট নম্বর একাধিক ওয়ার্ডে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অথচ বিজেপি–র শক্ত ঘাঁটি জোড়াসাঁকোয় এমন কোনো পরিবর্তন করা হয়নি বলে দাবি বিরোধীদের।
- ৩৮টি পার্ট লোপাট: কসবা, যাদবপুর, টালিগঞ্জ, কলকাতা পোর্ট, রাসবিহারী, বেলেঘাটা ও কাশীপুর-বেলগাছিয়া বিধানসভা এলাকার অন্তত ৩৮টি পার্ট নম্বরের কোনো হদিশ ডিলিমিটেশনের খসড়ায় পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে ওই সব বুথের ভোটাররা কোথায় ভোট দেবেন, তা নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
- ভোটারসংখ্যার চরম বৈষম্য: প্রস্তাবিত নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি নতুন ওয়ার্ডে ১৫ থেকে ১৭ হাজার ভোটার রাখার কথা। কিন্তু বিরোধীদের দাবি, আধিকারিকরা সেই নীতি লঙ্ঘন করে অন্তত ৭টি ওয়ার্ডে ২০ হাজার থেকে ২৮ হাজারের বেশি ভোটার নথিভুক্ত করেছেন।
ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের এই অসামঞ্জস্য ও স্বচ্ছতার অভাব নিয়ে কলকাতা পুরসভার নগরোন্নয়ন দপ্তরের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকেই এখন সবার নজর।