একটি সংক্ষিপ্ত, ক্লিকযোগ্য ও নজরকাড়া শিরোনাম দিন। শিরোনামটি অবশ্যই কোলন (:) মুক্ত হতে হবে, তবে আবেগ বা গুরুত্ব বোঝাতে অন্যান্য যতিচিহ্ন (যেমন বিস্ময়সূচক চিহ্ন ‘!’ বা প্রশ্নবোধক চিহ্ন ‘?’ কমা ‘,’) ব্যবহার করা যাবে। নিয়ম: – শুধুমাত্র ১টি শিরোনাম দেবেন – কোন ব্যাখ্যা, তালিকা বা একাধিক অপশন দেবেন না – শুধুমাত্র শিরোনামটি লিখবেন, অন্য কিছু নয় নজর দোষ কি শুধুই অন্ধবিশ্বাস নাকি নেপথ্যে রয়েছে বিজ্ঞান? জানুন প্রাচীন এই প্রথার আসল সত্য
বার্তা ডেস্কঃ
September 13, 20261:34 pm
আমাদের চারপাশে ‘নজর লাগা’ বা ‘ইভিল আই’ (Evil Eye)-এর নাম শোনেননি এমন মানুষ বিরল। হঠাৎ শিশু কেঁদে উঠলে কিংবা সুস্থ কেউ হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লেই প্রবীণদের মুখে এক কথা—”কাউরে কুনজর লেগেছে!” কিন্তু এই ধারণার আসল উৎস কোথায়? বিজ্ঞানই বা কী বলে?
কুনজরের ইতিহাস সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, নজর দোষের ধারণা আজ থেকে হাজার হাজার বছর পুরোনো। প্রাচীন গ্রিক, রোমান ও মেসোপটেমিয়া সভ্যতায়ও এর অস্তিত্ব ছিল। মূলত অন্যের তীব্র হিংসা, ঈর্ষা বা অতিরিক্ত প্রশংসার থেকে হওয়া ক্ষতিকেই ‘কুনজর’ বলা হতো। বিশ্বাস করা হতো, মনের নেতিবাচক শক্তি চোখের দৃষ্টি দিয়ে অন্যের ক্ষতি করতে পারে।
বিজ্ঞান কী বলে? বিজ্ঞান কোনো অতিপ্রাকৃত বা অলৌকিক শক্তিতে বিশ্বাস করে না। তবে এর মনস্তাত্ত্বিক দিকটি উড়িয়ে দেওয়া যায় না। বিশেষজ্ঞদের মতে, নেতিবাচক মানুষের উপস্থিতি এক ধরনের মানসিক চাপ তৈরি করে। তাছাড়া, যেকোনো দুর্ঘটনা বা অসুস্থতার নির্দিষ্ট কারণ খুঁজে না পেলে তা কোনো অদৃশ্য শক্তির ওপর চাপিয়ে স্বস্তি খোঁজার প্রবণতা মানুষের স্বভাবজাত।
মুক্তির প্রচলিত কিছু উপায় লোকসংস্কৃতিতে কুনজর কাটাতে একাধিক টোটকার প্রচলন আছে:
- কালো টিপ বা সুরমা: বাচ্চাদের কপালে বা কানের পেছনে কালো টিপ দেওয়া নজর কাটানোর অন্যতম প্রাচীন রূপক উপায়।
- লঙ্কা-নুন পোড়ানো: গ্রামবাংলায় নেতিবাচক শক্তি দূর করতে লঙ্কা ও নুন পোড়ানোর লোকায়ত নিয়ম দেখা যায়।
- ইতিবাচক মানসিকতা: অতিরিক্ত প্রশংসা বা ভিড় এড়িয়ে নিজের মধ্যে ইতিবাচক চিন্তাভাবনা বজায় রাখাই মানসিক সুরক্ষার আসল চাবিকাঠি।
নজর দোষ মূলত লোকবিশ্বাস ও মনস্তত্ত্বের মিশ্রণ হলেও, এটি আজও মানব সংস্কৃতির একটি অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ।