পুজোর চমক! অন্নপূর্ণার টাকায় বাজিমাত মহিষাদলের ‘অদ্রিজা ক্লাব’
বার্তা ডেস্কঃ
September 18, 202612:22 pm
পূর্ব মেদিনীপুর: সরকারি সহায়তার হাত ধরে বদলে গেল পুজোর ছবি। মহিষাদলের প্রাচীন মহিলা পরিচালিত ‘অদ্রিজা ক্লাব’-এ এবারের দুর্গাপুজোয় যেন বাড়তি আনন্দের জোয়ার। সৌজন্যে— সরকারের ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’। সরকারি প্রকল্পের মাধ্যমে হাতে আসা অর্থকে সম্বল করে ক্লাব কর্তৃপক্ষ এবার তাদের পুজোর বাজেট একেবারে দ্বিগুণ করে ফেলেছে।
বাজেটে অভাবনীয় লাফ: গত বছর (২০২৫ সাল) অদ্রিজা ক্লাবের পুজোর বাজেট ছিল আড়াই থেকে তিন লক্ষ টাকা। ২০২৬-এ সেই বাজেট একলাফে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ লক্ষ টাকায়। ক্লাবের সিংহভাগ সদস্যই প্রান্তিক পরিবারের মহিলা। প্রকল্পের মাধ্যমে দুই মাসে পাওয়া ৬,০০০ টাকার একটি অংশ পুজোর আয়োজনে ব্যয় করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁরা। বাড়তি আর্থিক স্বাচ্ছন্দ্যের কারণে এবার প্রতিমা, মণ্ডপসজ্জা এবং আলোকসজ্জায় বড় চমক দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
উৎসবের প্রস্তুতি ও স্থানীয়দের উন্মাদনা: সম্প্রতি মহাসমারোহে ক্লাবের মণ্ডপের খুঁটি পুজো সম্পন্ন হয়েছে। খুঁটি পুজোর পর থেকেই ক্লাবের মহিলা সদস্যরা পাড়ায় পাড়ায় গিয়ে চাঁদা সংগ্রহের কাজ শুরু করেছেন। গ্রামের সাধারণ মানুষও এই মহিলা পরিচালিত পুজোয় সানন্দে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিচ্ছেন।
কী বলছেন ক্লাব কর্তারা?
- নুপুর সামন্ত (সভাপতি): “আমাদের ক্লাবের অধিকাংশ সদস্যই প্রান্তিক পরিবারের নারী। সরকারি প্রকল্পের আর্থিক সহায়তা এই মহিলা পরিচালিত পুজোকে স্বনির্ভর হতে সাহায্য করেছে। সেই অর্থের একটি অংশ দিয়ে এবার বড় করে পুজো করার সুযোগ পেয়েছি।”
- রেখা দাস (সম্পাদক): “অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা পাওয়ায় এবার খুব সুন্দরভাবে পুজো আয়োজন করা সম্ভব হচ্ছে। ৩ লাখ থেকে বাজেট বেড়ে ৫ লক্ষ টাকা হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য বিশেষ কিছু করার পরিকল্পনা রয়েছে।”
স্বনির্ভরতার আলোয় মহিষাদলের দুর্গাপুজোর মানচিত্রে অদ্রিজা ক্লাবের এই আয়োজন এবার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হয়ে উঠতে চলেছে।