১৭০ বছরের হাওড়া স্টেশনে এবার শপিং মল ও সিনেমা হল, চমকে দেওয়ার মতো মেগা মেকওভার!
বার্তা ডেস্কঃ
September 20, 20261:45 pm
দেশের অন্যতম ব্যস্ত ও ঐতিহ্যবাহী পরিবহন হাব হাওড়া স্টেশন চত্বর এবার এক অভূতপূর্ব রূপান্তরের সাক্ষী হতে চলেছে। ১৭০ বছরেরও বেশি প্রাচীন এই চত্বরের পুরোনো সাবওয়ে থেকে শুরু করে বাস টার্মিনাস—সবকিছুরই আমূল আধুনিকীকরণ ঘটিয়ে একে বিশ্বমানের হাবে পরিণত করার মেগা পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে রাজ্য প্রশাসন ও পূর্ব রেল যৌথভাবে।
২৫ কোটি টাকায় তৈরি হচ্ছে সেন্ট্রাল এসি ‘স্মার্ট’ সাবওয়ে
বর্ষার মরশুমে সামান্য বৃষ্টিতেই হাওড়া স্টেশনের প্রধান সাবওয়েগুলোতে জল জমে নিত্যযাত্রীদের চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়। সেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান করতে এগিয়ে এসেছে রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর এবং পূর্ব রেল।
রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাই জানিয়েছেন, হাওড়া স্টেশন চত্বরকে বিশ্বমানের করতে হলে সাবওয়েগুলির আধুনিকীকরণ জরুরি। প্রাথমিক ভাবে ২৫ কোটি টাকা বরাদ্দের মাধ্যমে এই সাবওয়েগুলিকে মেট্রো স্টেশনের আদলে সাজানো হবে। এতে থাকবে:
সেন্ট্রাল এসি ও এস্কালেটর ব্যবস্থা
আধুনিক আলোকসজ্জা
উন্নত জলনিকাশি প্রযুক্তি, যাতে বৃষ্টিতে আর জল না জমে
বাস টার্মিনাসের মাথায় ১২ তলা কমপ্লেক্স, শপিং মল ও মাল্টিপ্লেক্স
হাওড়া স্টেশন সংলগ্ন বর্তমান বাস টার্মিনাসটিকে আর শুধু বাস দাঁড়ানোর জায়গায় সীমাবদ্ধ রাখা হচ্ছে না। এটিকে একটি সুবিশাল বহুমুখী ইকোসিস্টেমে রূপান্তরিত করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রস্তাবিত ১২ তলার এই বহুতলে যা যা থাকছে:
গ্রাউন্ড ফ্লোর: সর্বাধুনিক টেকনোলজিযুক্ত বাস টার্মিনাস
২য় ও ৩য় তলা: সুবিশাল গাড়ি ও বাইক পার্কিং
৪র্থ থেকে ৭ম তলা: বিশ্বমানের শপিং মল
৮ম থেকে ১১শ তলা: কর্পোরেট অফিস ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র
১২শ তলা: নামীদামী ব্র্যান্ডের ফুড কোর্ট
শীর্ষ স্তর: আধুনিক মাল্টিপ্লেক্স সিনেমা হল
সরাসরি প্ল্যাটফর্মে পৌঁছাবে সুবিশাল স্কাইওয়াক
বাস টার্মিনাস থেকে বেরিয়ে রাস্তায় নেমে যানজটের ঝক্কি এড়াতে তৈরি করা হচ্ছে একটি সুবিশাল স্কাইওয়াক। এটি বাস টার্মিনাস, লঞ্চঘাট, মেট্রো স্টেশন এবং হাওড়া রেলওয়ে স্টেশনকে এক সূত্রে বেঁধে ফেলবে।
হাওড়ার সিনিয়র ডিসিএম রাহুল রঞ্জন জানিয়েছেন, এই কার্যকারী স্কাইওয়াকটির নকশা বা ডিপিআর (DPR) তৈরির কাজ চলছে। এর ফলে যাত্রীরা রাস্তা না পেরিয়েই সরাসরি ৮ নম্বর প্ল্যাটফর্ম বা অন্য প্ল্যাটফর্মে পৌঁছে যেতে পারবেন, যা নিরাপত্তার পাশাপাশি যানজট কমাতেও বড় ভূমিকা নেবে।
৫ বছরের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্য
প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়ন করতে একটি বিশেষ টাস্ক ফোর্স গঠন করা হচ্ছে। আগামী ৫ বছরের মধ্যে এই পুরো মেগা প্রজেক্টের কাজ শেষ করার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। ডিপিআর ও অর্থ বরাদ্দের চূড়ান্ত অনুমোদন মিললেই পুরোদমে শুরু হয়ে যাবে হাওড়া স্টেশনের এই ঐতিহাসিক মেকওভার।