৬ বছর পর বড় চমক, নাড্ডার কনভয়ে হামলার ঘটনায় গ্রেপ্তার ২ প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা!
বার্তা ডেস্কঃ
September 21, 20262:38 pm
দক্ষিণ ২৪ পরগনা: বিজেপির তৎকালীন সর্বভারতীয় সভাপতি জে পি নাড্ডার কনভয়ে হামলার প্রায় ৬ বছর পর অবশেষে বড় সাফল্য পেল পুলিশ। দক্ষিণ ২৪ পরগনার মগরাহাট পশ্চিম থেকে বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র-সহ গ্রেফতার করা হলো দুই প্রভাবশালী স্থানীয় তৃণমূল নেতা— রিপন শেখ এবং সঞ্জীব মণ্ডলকে।
পুলিশ সূত্রের খবর, এলাকা জুড়ে ‘বাইক বাহিনী’ নিয়ে তাণ্ডব চালানো এবং সাধারণ মানুষকে ভয় দেখানোর একাধিক অভিযোগ ছিল এই দুই নেতার বিরুদ্ধে। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে মগরাহাটে অভিযান চালিয়ে তাদের হাতেনাতে ধরে পুলিশ। ধৃতদের কাছ থেকে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র।
কী ঘটেছিল ২০২০ সালে?
২০২০ সালের ডিসেম্বরে দক্ষিণ ২৪ পরগনায় এক দলীয় কর্মসূচিতে যাওয়ার পথে শিরাকোলের কাছে জে পি নাড্ডার কনভয়ে অতর্কিতে হামলা চালায় দুষ্কৃতীরা। চলন্ত গাড়িতে চলে মুড়িমুড়কির মতো পাথরবৃষ্টি ও ভাঙচুর। সেই সময়ে নাড্ডার সঙ্গে একই কনভয়ে ছিলেন তৎকালীন রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ এবং সুকান্ত মজুমদার। হামলার ভয়াবহতা প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ পরবর্তীতে ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেছিলেন, “গাড়িটি বুলেটপ্রুফ না থাকলে সেদিন প্রাণহানির মতো বড় অঘটন ঘটে যেত।”
ধামাচাপা ফাইল খুলতেই সাফল্য:
ঘটনার পরপরই দায়ের হওয়া প্রথম এফআইআরে নাম উঠেছিল এলাকার দাপুটে তৃণমূল নেতা ‘পুষ্পা’ জাহাঙ্গিরের। অভিযোগ, তৎকালীন পুলিশের ঢিলেঢালা মানসিকতার কারণে অভিযুক্তরা পার পেয়ে যায় এবং এলাকায় পুনরায় নিজেদের দাপট দেখাতে শুরু করে। পরবর্তীতে প্রশাসন কঠোর অবস্থান নিতেই গ্রেফতার করা হয় মূল অভিযুক্ত জাহাঙ্গিরকে।
পুরোনো ফাইল পুনর্বিবেচনা করে তদন্ত শুরু করতেই একের পর এক যোগসূত্র সামনে আসতে থাকে। সেই তদন্তের সূত্র ধরেই এবার পুলিশের জালে ধরা পড়ল রিপন ও সঞ্জীব। উদ্ধার হওয়া আগ্নেয়াস্ত্রের উৎস কী এবং এই চক্রান্তের নেপথ্যে আর কোন প্রভাবশালী যুক্ত রয়েছে, তা জানতে ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করছেন তদন্তকারীরা।