হাতছাড়া জোড়াফুল, মমতার হাত থেকে কীভাবে কাড়ল কমিশন?
বার্তা ডেস্কঃ
September 21, 20264:28 pm
বিধানসভা নির্বাচনের মাত্র চার মাসের মধ্যে চরম রাজনৈতিক সংকটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস। দল ভেঙে তিন টুকরো হওয়ার পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের কড়া পদক্ষেপে হাতছাড়া হয়েছে জোড়াফুল প্রতীক ও মূল দলের নাম। রাজনৈতিক পরিচিতি ও তহবিল রক্ষার এই কঠিন লড়াইয়ে প্রশ্ন উঠছে—মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কি আদৌ তাঁর পুরোনো চিহ্ন ফিরে পাবেন?
কীভাবে হাতছাড়া হলো চেনা পরিচয়? ১৯৯৮ সালে কংগ্রেস ত্যাগ করে দল গড়ার পর মমতার নিজের হাতে আঁকা ‘জোড়াফুল’ প্রতীকই ছিল তাঁর রাজনীতির মূল স্তম্ভ। কিন্তু সাম্প্রতিক চরম অন্তর্দ্বন্দ্বে দল বিভক্ত হওয়ার পর নির্বাচন কমিশন জানিয়ে দিয়েছে, ‘সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’ এবং ‘জোড়াফুল’ প্রতীকের প্রাতিষ্ঠানিক অস্তিত্ব আপাতত স্থগিত। আসন্ন উপনির্বাচনে দুই পক্ষকে দেওয়া হয়েছে পৃথক নাম ও প্রতীক:
- মমতা শিবির: নতুন নাম ‘মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’ এবং প্রতীক ‘ফুটবল খেলোয়াড়’।
- ঋতব্রত শিবির: নতুন নাম ‘গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস’ এবং প্রতীক ‘খাম’।
যে আইনি ও সাংবিধানিক নিয়মে এই সিদ্ধান্ত: নির্বাচন কমিশন মূলত ১৯৯৬ সালের নির্বাচনী প্রতীক আইনের ১৫ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এই পদক্ষেপ নিয়েছে। ১৯৭০ সালের ঐতিহাসিক ‘সাদিক আলি বনাম নির্বাচন কমিশন’ মামলায় সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়েছিল—কোনো রাজনৈতিক দল বিভক্ত হলে কাদের দিকে সংখ্যাগরিষ্ঠ বিধায়ক, সাংসদ ও সাংগঠনিক পদের সমর্থন রয়েছে, তা যাচাই করেই নাম ও প্রতীকের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে কমিশন।
সর্বোচ্চ আদালতে মমতার লড়াই: নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের পর পুরোনো নাম ও ‘জোড়াফুল’ প্রতীক পুনরুদ্ধারে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অতীতে মহারাষ্ট্রের শিবসেনা বা তামিলনাড়ুর এআইএডিএমকে-র ক্ষেত্রেও একই ধরণের আইনি যুদ্ধ দেখা গিয়েছিল। এখন সুপ্রিম কোর্টের চূড়ান্ত রায়ের ওপরই নির্ভর করছে বঙ্গ রাজনীতিতে মমতার আদি প্রতীকের ভবিষ্যৎ।