পুজো নিয়ে বিবাদ, গুলি চালিয়ে স্ত্রী ও পুরোহিতসহ নিহত ৪!
বার্তা ডেস্কঃ
September 23, 20262:05 pm
আজমগড়: পুজো অনুষ্ঠান আয়োজনকে কেন্দ্র করে পারিবারিক বিবাদ পরিণত হলো এক নারকীয় হত্যাকাণ্ডে। উত্তরপ্রদেশের আজমগড়ের অহরৌলা থানার শম্ভুপুর গ্রামে স্ত্রী, দুই পুরোহিত ও নিজের ছেলেকে গুলি করার অভিযোগ উঠল অরবিন্দ সিং নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। দীর্ঘ ৭ ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস নাটক ও পুলিশি এনকাউন্টারের পর হাসপাতালে মৃত্যু হয়েছে অভিযুক্ত অরবিন্দেরও। গুলিবিদ্ধ ছেলেরও মৃত্যু হওয়ায় এই ঘটনায় মোট ৫ জন প্রাণ হারিয়েছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দুই বছর আগে অরবিন্দের ভাই গুড্ডু সিং গুলিতে নিহত হন। তাঁর আত্মার শান্তির উদ্দেশ্যেই মঙ্গলবার বাড়িতে বিশেষ পুজোর আয়োজন করেছিলেন পরিবারের সদস্যরা। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দুই পুরোহিত মহেন্দ্র পাঠক এবং অখিলেশ মিশ্র। তবে এই পুজো আয়োজনে আপত্তি ছিল অরবিন্দের। মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা নাগাদ বাড়ি ফিরে স্ত্রী ববিতা সিংকে পুজোয় বসা অবস্থায় দেখে ক্ষোভে ফেটে পড়েন তিনি। স্ত্রী ও পুরোহিতদের সঙ্গে তর্কাতর্কির এক পর্যায়ে অরবিন্দ তাঁর লাইসেন্সপ্রাপ্ত আগ্নেয়াস্ত্র বের করে এলোপাথাড়ি গুলি চালান। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় ববিতা ও দুই পুরোহিতের।
হত্যাকাণ্ডের পরপরই তিন সন্তানকে নিয়ে একটি ঘরে ঢুকে ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে দেন অরবিন্দ। খবর পেয়ে বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে অরবিন্দকে আত্মসমর্পণের অনুরোধ জানায়। পরিবারের মানুষদের দিয়েও কথা বলানোর চেষ্টা করা হয়, কিন্তু অরবিন্দ লাগাতার পুলিশ ও সন্তানদের মেরে ফেলার হুমকি দিতে থাকেন। টানাপোড়েনের মাঝেই হঠাৎ ঘরের ভেতর থেকে গুলির শব্দ আসে এবং তাঁর এক ছেলে গুলিবিদ্ধ হয়।
শিশুদের বাঁচাতে ও অরবিন্দকে কাবু করতে পুলিশ ঘরে ঢোকার চেষ্টা করলে অরবিন্দ পুলিশকে লক্ষ্য করেও গুলি চালান। আত্মরক্ষা এবং শিশুদের সুরক্ষার স্বার্থে পাল্টা গুলি চালায় পুলিশ। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে জখম হন অরবিন্দ। পরে পুলিশ তাঁকে ও গুলিবিদ্ধ ছেলেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা দু’জনকেই মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনায় অরবিন্দের দুই মেয়েকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হলেও চোখের সামনে মা, বাবা ও ভাইকে হারিয়ে তারা মারাত্মক মানসিক ট্রমার মধ্যে রয়েছে। আজমগড়ের পুলিশ সুপার অনিল কুমার জানিয়েছেন, ঘটনাস্থল থেকে আগ্নেয়াস্ত্র ও বিভিন্ন নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। ঠিক কী কারণে অরবিন্দ এই চরম পথ বেছে নিলেন, তা খতিয়ে দেখতে আইনি ও বিভাগীয় তদন্ত চালনা করছে পুলিশ।