দুর্গাপুজোর পাসে কোটি টাকার দুর্নীতি, প্রাক্তন মন্ত্রীর বাড়িতে হানা ইডির!
বার্তা ডেস্কঃ
September 29, 20269:18 am
কলকাতা: দুর্গাপুজোর পাস বিক্রির নামে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ কোটি টাকার আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগে এবার কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-এর স্ক্যানারে রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন। মঙ্গলবার সাতসকালে প্রাক্তন মন্ত্রীর কসবার বাসভবনসহ কলকাতা ও সংলগ্ন অঞ্চলের মোট ১০টি স্থানে একযোগে তল্লাশি অভিযান শুরু করেন ইডি আধিকারিকেরা।
কলকাতার কসবা ছাড়াও হিন্দুস্তান পার্ক, হাইল্যান্ড পার্কের এক ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট ব্যবসায়ীর বাড়ি এবং হুগলির সিঙ্গুরে ইন্দ্রনীল সেনের বাগানবাড়ি ‘মোহর’-এও পৌঁছে যান তদন্তকারীরা।
কী এই দুর্গাপুজো পাস দুর্নীতি? তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে, দুর্নীতির শিকড় গত জুন মাসে বউবাজার থানায় দায়ের হওয়া একটি অভিযোগ থেকে। অভিযোগে দাবি করা হয়—
- ইউনেস্কোর নাম অপব্যবহার: ২০২১ সালে কলকাতার দুর্গাপুজো ইউনেস্কোর হেরিটেজ স্বীকৃতি পাওয়ার পর ‘মাস আর্ট’ নামে একটি সংস্থা গড়ে তোলা হয় (যার সাথে প্রাক্তন মন্ত্রীর স্ত্রী মধুছন্দা সেন জড়িত বলে অভিযোগ)। ইউনেস্কোর অফিশিয়াল লোগো ও নাম বেআইনিভাবে ব্যবহার করে বিশ্বস্ততা তৈরি করা হতো।
- চড়া দামে ভিআইপি পাস বিক্রি: শহরের প্রায় ২৪টি প্রথম সারির দুর্গাপুজোর ‘প্রিভিউ শো’ দেখানোর নাম করে সাধারণ মানুষের কাছে ১,৭৪৯ টাকা থেকে ৫,৪৯৯ টাকা পর্যন্ত দামে চড়া মূল্যে পাস বিক্রি করা হতো।
- লাখ লাখ মানুষের রেজিস্ট্রেশন: তথ্য অনুযায়ী, এই পাসের জন্য ২০২২ সালে প্রায় ১৯ হাজার, ২০২৩ সালে ৩৪ হাজার এবং ২০২৪ সালে প্রায় ৬১ হাজার মানুষ টাকা দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করেছিলেন।
ইউনেস্কো থেকে এমন কোনো পাস বা মণ্ডপ বাছাইয়ের অনুমতি ছিল না বলে ইডির প্রাথমিক অনুমান। ইউনেস্কোর ভুয়া পরিচয় দিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার এই বিপুল আর্থিক তছরুপের সত্যতা যাচাই করতেই প্রাক্তন মন্ত্রী, তাঁর পরিবার ও সংশ্লিষ্ট সহযোগীদের ডেরায় এই তল্লাশি চালানো হচ্ছে।