পুজোর আগেই ডেঙ্গি আতঙ্ক! জেলাশাসকদের কড়া নির্দেশ দিল নবান্ন
বার্তা ডেস্কঃ
September 29, 20261:10 pm
কলকাতা: শারদোৎসবের দিনগোনা শুরুর মধ্যেই রাজ্যবাসীর উৎসবের আমেজে চিন্তার মেঘ জমাচ্ছে লাফিয়ে বাড়তে থাকা ডেঙ্গি সংক্রমণ। অক্টোবর ও নভেম্বর মাসকে ‘হাই রিস্ক’ বা অতি ঝুঁকিপূর্ণ সময় হিসেবে চিহ্নিত করে এখন থেকেই সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দিয়েছে নবান্ন।
উৎসবের মরশুমে ডেঙ্গি যাতে কোনোভাবেই মহামারীর রূপ নিতে না পারে, তার জন্য সোমবার নবান্নে সমস্ত জেলাশাসকদের নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল। স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়— ডেঙ্গি দমনে কোনো গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না। স্বাস্থ্য, পুরসভা এবং পঞ্চায়েত দপ্তরকে যৌথভাবে মাঠে নেমে পরিচ্ছন্নতা ও মশা নিধনে জোর দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উদ্বেগ বাড়াচ্ছে সংক্রমণের গ্রাফ: স্বাস্থ্য দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, পুজোর আগের মাত্র দুই সপ্তাহে নতুন করে প্রায় আড়াই হাজার মানুষ ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়েছেন।
- ৬ অগাস্ট: রাজ্যে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ২,৪১০ জন।
- ১০ সেপ্টেম্বর: আক্রান্তের সংখ্যা এক লাফে বেড়ে দাঁড়ায় ৪,৬৭৯-এ।
- ২৬ সেপ্টেম্বর: মোট আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৭,৩২০ জন।
বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে দেড়শতেরও বেশি মানুষ ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হচ্ছেন।
সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ যে ৪ জেলা: বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্ষার বিদায়বেলাই ডেঙ্গির প্রধান প্রজনন সময়। দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতেই এই ভাইরাসের দাপট সবচেয়ে বেশি। সংক্রমণের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে মুর্শিদাবাদ, আর ঠিক তার পরেই দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে কলকাতা। এছাড়া নদীয়া ও উত্তর ২৪ পরগনা জেলাতেও পরিস্থিতির গতি বেশ উদ্বেগজনক।
প্রশাসনের অল-আউট অ্যাকশন: পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে গ্রাম ও শহরের সর্বত্র জল জমা বন্ধ করা, নিয়মিত ব্লিচিং ও লার্ভিসাইড স্প্রে করা এবং সাধারণ মানুষকে সচেতন করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। উৎসবের আনন্দে যেন কোনোভাবেই ডেঙ্গির নজর না পড়ে, তার জন্য সর্বশক্তি দিয়ে ময়দানে নামছে প্রশাসন।