নেতা-মন্ত্রীরা নন, আসল VIP কারা? দুর্গাপূজায় বড় বার্তা রুদ্রনীলের!
বার্তা ডেস্কঃ
কলকাতা: দুর্গাপুজোর প্রাক্কালে রাজ্যে ‘ভিআইপি কালচার’ বর্জন এবং ছোট-বড় সমস্ত পুজোকে এক ছাতার তলায় আনার লক্ষ্য নিয়ে আত্মপ্রকাশ করল ‘পশ্চিমবঙ্গ দুর্গাপুজো সমন্বয় সমিতি’। গত ৩০শে সেপ্টেম্বর আয়োজিত এই সমিতির শুভ উদ্বোধনে উপস্থিত ছিলেন বিজেপি বিধায়ক তথা অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষ। উদ্বোধনী মঞ্চ থেকেই পুজোর বাণিজ্যিকীকরণ ও ভিআইপি প্রথার বিরুদ্ধে সুর চড়ান তিনি।
আসল VIP কারা? উৎসবের দিনগুলোতে কারা প্রকৃত ভিআইপি—তার এক নতুন ব্যাখ্যা দেন রুদ্রনীল। তিনি বলেন, “কোনো নেতা-মন্ত্রী, পদাধিকারী বা বিপুল অর্থবান ব্যক্তি পুজোর ভিআইপি নন। মায়ের কাছে সবাই সমান। আমাদের পরিবারের শারীরিক অসুস্থতায় ভোগা প্রবীণ বাবা-মা, ভিড় ঠেলে যেতে না পারা প্রতিবন্ধী ভাই-বোন কিংবা এক কোণে দাঁড়িয়ে থাকা সাধারণ মানুষটিই আমাদের কাছে আসল ভিআইপি।”
ছোট-বড় ভেদাভেদ নয়, এক সূত্রে সব পুজো কলকাতার বিগ বাজেট পুজোর আলোর ঝলকানিতে গ্রামীণ বা বনেদি বাড়ির পুজো যাতে ঢাকা না পড়ে, সেই বিষয়ে আলোকপাত করেন তিনি। রুদ্রনীল জানান:
- মা কখনও বড়, ছোট বা মাঝারি হন না; বাজেটের ওপর মায়ের আশীর্বাদ নির্ভর করে না।
- কলকাতার গণ্ডি ছাড়িয়ে জেলা, রাজ্যের বাইরে (যেমন বেঙ্গালুরুর ১৫ লাখ বাঙালির পুজো) এবং বিদেশের (লন্ডন, আমেরিকা, দুবাই ইত্যাদি) পুজোকেও এই সমিতির সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
শিল্পী ও ঢাকীদের সম্মান জানানোর উদ্যোগ শুধু পুজো পরিক্রমা নয়, এই সমিতির মূল উদ্দেশ্য হলো পুজোর সঙ্গে যুক্ত পেছনের মানুষদের স্বীকৃতি দেওয়া:
- পুরোহিত, প্যান্ডেল শিল্পী, ডেকোরেটর, শোলা শিল্পী এবং ঢাকীদের যথাযথ সম্মান ও আর্থিক সহায়তার বিষয়ে আলোচনা হবে।
- পুলিশ প্রশাসন ও তথ্য-সংস্কৃতি দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় রেখে গ্রাম ও শহরের পুজো পরিচালনা সহজতর করা হবে।
- যে সমস্ত প্রত্যন্ত পুজোর খবর মিডিয়ার আলো পায় না, আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে সেগুলির লাইভ স্ট্রিম ও তথ্য পৌঁছে দেওয়া হবে সাধারণ মানুষের কাছে।
পরম্পরা ও আন্তরিকতাকে প্রাধান্য দিয়ে সমস্ত পুজোকে এক সুতোয় গাঁথাই এই নবগঠিত কমিটির প্রাথমিক লক্ষ্য বলে জানান তিনি।