শিবাজি পার্কে নজিরবিহীন তোলপাড়, ‘ককরোচ’দের পাশে দাঁড়ালেন নাসিরুদ্দিন-জাভেদ!
বার্তা ডেস্কঃ
মুম্বই: মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং তাঁর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলার দাবিতে উত্তপ্ত হয়ে উঠল মুম্বইয়ের ঐতিহাসিক শিবাজি পার্ক। এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ায় ব্যাপক কারচুপির অভিযোগে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র তরফ থেকে ডাক দেওয়া ‘জেল ভরো’ আন্দোলনকে ঘিরে দাদর ও শিবাজি পার্ক এলাকায় অভূতপূর্ব উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুরো এলাকা জুড়ে কড়া পুলিশি নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে।
এই আন্দোলনের আঁচে জাতীয় রাজনীতিতে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে, বিশেষ করে দুই কিংবদন্তি ব্যক্তিত্ব—অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহ এবং গীতিকার জাভেদ আখতারের উপস্থিতিতে তা নতুন মাত্রা পেয়েছে।
দাবিতে অনড় সিজেপি, তোপ কংগ্রেসের সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকের নেতৃত্বে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভে অভিযোগ করা হয়েছে যে, বর্তমান নির্বাচন কমিশন দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোর সঙ্গে চরম সমঝোতা করছে। আন্দোলনকারীদের প্রধান দাবিগুলি হলো:
- মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে অবিলম্বে পদ থেকে অপসারণ।
- নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর (FIR) দায়ের।
- বিতর্কিত এসআইআর তালিকা স্থগিত রেখে ২০২৫ সালের জানুয়ারির মূল ভোটার তালিকার ভিত্তিতে নির্বাচন পরিচালনা।
ঘটনায় কংগ্রেসের জাতীয় মুখপাত্র পবন খেড়াও কেন্দ্রের সমালোচনা করে সামাজিক মাধ্যমে তোপ দেগেছেন। তাঁর অভিযোগ, কেন্দ্রীয় সরকার যেকোনো উপায়ে সিইসি জ্ঞানেশ কুমারকে আড়াল করার চেষ্টা চালাচ্ছে।
বলিপাড়ার উপস্থিতি ও স্থানীয় প্রতিক্রিয়া আন্দোলনস্থলে সশরীরে উপস্থিত হয়ে সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকের সঙ্গে দেখা করেন বর্ষীয়ান অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহ এবং আন্দোলনকারীদের প্রতি নিজের পূর্ণ সমর্থন জানান।
অন্যদিকে, বারবার রাজনৈতিক কর্মসূচির কারণে স্থানীয় ব্যবসা ব্যাহত হওয়া এবং শব্দদূষণ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন শিবাজি পার্ক এলাকার বাসিন্দারা। এই প্রসঙ্গে প্রবীণ গীতিকার জাভেদ আখতার মন্তব্য করেন, নাগরিক অধিকার ও শব্দদূষণ নিয়ে সাধারণ মানুষের এই সচেতনতা অত্যন্ত ইতিবাচক পদক্ষেপ। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে মহারাষ্ট্রের যেকোনো রাজনৈতিক দল এই পার্কে সভা বা আন্দোলন করলে, বাসিন্দারা ঠিক একইভাবে সমান তেজে প্রতিবাদ জানাবেন।
পুলিশের আনুষ্ঠানিক অনুমতি না থাকা সত্ত্বেও মুম্বইয়ের শিবাজি পার্ক থেকে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ দমানো যায়নি। সংগঠনটি জানিয়েছে, দ্রুতই এই আন্দোলন দেশের অন্যান্য শহরে ছড়িয়ে দেওয়া হবে এবং চলতি মাসের শেষের দিকে দিল্লির যন্তর মন্তরে এক বিশাল সমাবেশের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় স্তরে পৌঁছাবে।