রক্তাক্ত পাইলট আর ককপিটে দুই রহস্যময় ব্যক্তি, ফ্লাইদুবাইয়ের নেপথ্যে কী ঘটল?
বার্তা ডেস্কঃ
মাঝ আকাশে চরম আতঙ্ক! ফ্লাইদুবাইয়ের FZ1073 বিমানটিতে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ পরিস্থিতির রেশ কাটছে না। ওমানি সহ-পাইলটের ছুরিকাঘাতে রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত হওয়া সত্ত্বেও ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছার যেভাবে শতাধিক যাত্রীর প্রাণ বাঁচিয়েছেন, তাঁকে নিয়ে চর্চা চলছে বিশ্বজুড়ে। তবে এই ঘটনার নেপথ্যে উঠে এসেছে আরও এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। বিমানটিকে নিরাপদে অবতরণ করাতে আরও দুই পাইলট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। কিন্তু হঠাৎ বিপদে ত্রাতার মতো কোথা থেকে হাজির হলেন তাঁরা?
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনার সময় ওই বিমানে যাত্রী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আরও দুই পাইলট। ফ্লাইদুবাইয়ের ওই বিমানটি যখন মাঝ আকাশে বিপদের মুখে পড়ে এবং সহ-পাইলটের হামলায় ক্যাপ্টেন স্মিত রক্তাক্ত হন, তখন নিমেষেই পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিমানটি কয়েক হাজার ফুট নিচে নেমে যায়। তবে চরম সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে আহত পাইলট স্মিত ককপিটের দরজা খুলে দেন এবং তারপরেই তিনি সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়েন। দরজা খোলার সুযোগ পেয়েই অন্য যাত্রীরা ও ক্রু সদস্যরা ককপিটে ঢুকে অভিযুক্ত সহ-পাইলটকে নিয়ন্ত্রণে আনেন।
বিমানে কেন ছিলেন অতিরিক্ত পাইলটরা?
জানা গিয়েছে, বিমানটিতে যে দুই অতিরিক্ত পাইলট উপস্থিত ছিলেন, তাঁরা মূলত ‘ডেডহেডিং’ (Deadheading) ব্যবস্থার অংশ হিসেবে যাত্রা করছিলেন। আঞ্চলিক উত্তেজনার কারণে ওই রুটে বিমানের গতিপথ পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। যার ফলে নির্ধারিত দুই পাইলটের ডিউটি সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। পাইলটদের অতিরিক্ত ক্লান্তি ও ডিউটি আওয়ার্স সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে চলার জন্যই ওই দুই অতিরিক্ত পাইলটকে বিমানে রাখা হয়েছিল।
নিয়ম অনুযায়ী, এই ধরনের জটিল বা দীর্ঘ রুটে অতিরিক্ত ক্রু মেম্বাররা থাকলে জরুরি পরিস্থিতিতে অপারেশনাল সহায়তা পাওয়া যায়। ঠিক যেমনটি ঘটেছিল FZ1073 বিমানের ক্ষেত্রে। মূল পাইলট রক্তাক্ত হয়ে যাওয়ায় এবং ককপিটের নিয়ন্ত্রণ রক্ষা করা আসাম্ভব হয়ে দাঁড়ানোয়, অফ-ডিউটিতে থাকা ওই দুই পাইলট তৎক্ষণাৎ হাল ধরেন। তাঁদের সুচিন্তিত পদক্ষেপে সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে বিমানটিকে নিরাপদে জরুরি অবতরণ করানো সম্ভব হয়। বিমানে থাকা সমস্ত যাত্রী অক্ষত অবস্থাতেই রক্ষা পান।