ব্রাজিলের জয়েও চিন্তার ভাঁজ, প্রশংসায় পঞ্চমুখ আনচেলত্তি!
বার্তা ডেস্কঃ
ফিফা দুই দলের মধ্যে ব্যবধান ছিল ১৩২ ধাপের। ফলে যুবভারতীতে ব্রাজিলের পা থেকে গোলের বন্যা দেখার প্রত্যাশাই ছিল সবার। কিন্তু ম্যাচের প্রথম ২৮ মিনিটে ছবির রঙটা ছিল সম্পূর্ণ আলাদা। ব্রাজিলের তারকাদের ভালোভাবেই আটকে রেখেছিল টিম ইন্ডিয়া। শেষ পর্যন্ত ৪-০ ব্যবধানে ম্যাচ জিতলেও দলের পারফরম্যান্স নিয়ে ১০০ ভাগ সন্তুষ্ট নন ব্রাজিলের কোচ কার্লো আনচেলত্তি। বিশেষ করে রক্ষণের ফাঁকফোকর নিয়ে কড়া বার্তা দিয়েছেন তিনি।
ভারতের কৌশলে চমকে গিয়েছিল ব্রাজিল? ম্যাচের আগে ভারতের রণকৌশল সম্পর্কে ওয়াকিবহাল ছিলেন আনচেলত্তি। তাঁর মতে, ভারত শুরু থেকেই রক্ষণ জমাট রেখে সুযোগ পেলেই কাউন্টার অ্যাটাকে ওঠার চেষ্টা করেছে। আর এতেই কিছুটা সমস্যায় পড়েছিল সেলেসাওরা।
আনচেলত্তির কথায়, “ভারত নিজেদের মতো করে লড়াই করেছে। ওরা রক্ষণ সামলে সংগঠিত থেকেছে এবং কাউন্টার অ্যাটাকে যাওয়ার চেষ্টা করেছে। আমাদের গোলের সুযোগ তৈরি করতে বেশ বেগ পেতে হয়েছে। তবে এস্তেভাও গোল করার পর আমরা ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিতে পারি।”
‘রক্ষণে উন্নতি দরকার’ ম্যাচে গোল হজম না করায় খুশি হলেও একে নিখুঁত ডিফেন্স বলতে নারাজ ব্রাজিল কোচ। কারণ হিসেবে তিনি জানান, এদিনের রক্ষণভাগের খেলোয়াড়েরা এর আগে কখনও একসঙ্গে খেলেননি।
আনচেলত্তির স্পষ্ট দাবি, “গোল না খাওয়াটা নিঃসন্দেহে ইতিবাচক। কিন্তু কাউন্টার অ্যাটাকে ভারত যদি আরও দু’একটা সুযোগ কাজে লাগাত, তবে আমাদের আরও বিপদে পড়তে হতো। রক্ষণে এখনও অনেক উন্নতির জায়গা রয়েছে। নতুন কম্বিনেশন হওয়ায় সব কিছু নিখুঁত হবে না, এটাই স্বাভাবিক।”
তরুণদের পারফরম্যান্স ও কলকাতার অভিজ্ঞতা অস্ট্রেলিয়ার পর ভারতের বিরুদ্ধে এই ম্যাচটি তরুণ ফুটবলারদের ঝালিয়ে নেওয়ার দারুণ সুযোগ ছিল আনচেলত্তির কাছে। আন্তর্জাতিক এই সূচি থেকে দলের অনেক ফুটবলারকেই নতুন করে চিনেছেন তিনি।
কলকাতার সমর্থকদের উন্মাদনা এবং আতিথেয়তায় মুগ্ধ ব্রাজিল কোচ। সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “এখানে এসে আমরা ভীষণ খুশি। যাঁরা ব্রাজিল এবং ফুটবলকে ভালোবাসেন, তাঁদের সামনে নিজেদের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। আশা করি, তাঁরা এই রাতটা দারুণভাবে উপভোগ করেছেন। ম্যাচটিতে দারুণ গতি, তীব্রতা এবং বিনোদন ছিল।”
উল্লেখ্য, শনিবার রাতেই ব্রাজিলের সাত জন ফুটবলার দল ছেড়ে উড়ে গেছেন, বাকিরা রবিবার রওনা দেবেন।