অনুপ্রবেশ আর নয়, পাকিস্তানকে কড়া বার্তা দিল ভারত!
বার্তা ডেস্কঃ
সীমান্ত পেরিয়ে লাগাতার অনুপ্রবেশের ঘটনায় এবার ইসলামাবাদকে চরম হুঁশিয়ারি দিল ভারত। পাঞ্জাব সীমান্তে বিএসএফের (BSF) গুলিতে দুই পাকিস্তানি নাগরিকের মৃত্যুর পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এই ঘটনার পরই ভারতের পক্ষ থেকে পাকিস্তানের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সকে তলব করে তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয় এবং সাফ জানিয়ে দেওয়া হয় যে, যে কোনও মূল্যে এই অনুপ্রবেশ রুখতেই হবে।
সীমান্তে রক্তক্ষয়ী সংঘাত ঘটনার সূত্রপাত গত শুক্রবার। পাঞ্জাবের তরন তারন জেলার আন্তর্জাতিক সীমান্ত দিয়ে তিন জন পাকিস্তানি নাগরিক ভারতীয় ভূখণ্ডে ঢুকে পড়েন। বিএসএফের দাবি, বারবার সতর্ক করা সত্ত্বেও তাঁরা পিছু হটছিলেন না। উল্টে জওয়ানদের লক্ষ্য করে লাগাতার উস্কানি দেওয়া হচ্ছিল। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে বাধ্য হয়ে গুলি চালান বিএসএফ জওয়ানরা। ঘটনাস্থলেই দুই পাকিস্তানি অনুপ্রবেশকারীর মৃত্যু হয় এবং সুযোগ বুঝে তৃতীয় জন পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।
মাদক পাচারের চেষ্টা ও ভারতের কড়া অবস্থান নয়াদিল্লির বিদেশ মন্ত্রকের স্পষ্ট অভিযোগ, পাকিস্তান থেকে সশস্ত্র মাদক পাচারকারীরা বারবার সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে ঢোকার যে অপচেষ্টা চালাচ্ছে, এই ঘটনা তারই জ্বলন্ত প্রমাণ। এই প্রেক্ষাপটেই পাকিস্তানের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সকে ডেকে পাঠিয়ে কড়া ভাষায় তলব করা হয়। শুধু তাই নয়, এই অনুপ্রবেশ এবং মাদক পাচারের নেপথ্যে পাকিস্তানের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (রঞ্জর্স) কোনও যোগসাজশ রয়েছে কি না, তা নিয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
পাকিস্তানের দাবি খারিজ করল ভারত অন্যদিকে, পাকিস্তানের দাবি ছিল যে নিহত দুই ব্যক্তি সাধারণ নাগরিক এবং ভুলবশত তাঁরা আন্তর্জাতিক সীমান্ত পার করে ফেলেছিলেন। তবে ইসলামাবাদের এই সাফাই সম্পূর্ণ খারিজ করে দিয়েছে ভারত। বিদেশ মন্ত্রকের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়, পাকিস্তানের এই দাবি সম্পূর্ণ ‘ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’। ভারত স্পষ্ট ভাষায় বলে দিয়েছে, সীমান্ত সংক্রান্ত সমস্ত নিয়ম ও চুক্তি কড়াকড়িভাবে মেনে চলতে হবে। নিজেদের ভূখণ্ড ব্যবহার করে যাতে ভবিষ্যতে কেউ বেআইনিভাবে ভারতে প্রবেশ করতে না পারে, তার জন্য পাক সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ করতে হবে।
উল্লেখ্য, এই ঘটনার জেরে এর আগেই ভারতের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সকে তলব করেছিল পাকিস্তান। বিএসএফের বিরুদ্ধে ‘নিরস্ত্র সাধারণ নাগরিকদের’ ওপর বিনা প্ররোচনায় প্রাণঘাতী হামলার অভিযোগ তুলেছিল ইসলামাবাদ। তবে নয়াদিল্লি সেই সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে উল্টে পাকিস্তানকে তাদের ঘরের ভিটে সামলানোর কড়া বার্তা দিল।