গমের গুদামে রেশনের চাল পাচার! হাতেনাতে ধরা পড়ল পাচারকারীরা
বার্তা ডেস্কঃ
গমের গুদামের আড়ালে চলছিল রেশনের চাল পাচারের রমরমা কারবার। আর সেই কুকীর্তি হাতেনাতে ধরে ফেললেন স্থানীয় বাসিন্দারা। শুক্রবার বিকেলে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ছড়ায় বরাহনগর পুরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের পঞ্চবটিতলা চত্বরে। অন্ধ্রপ্রদেশের নম্বর প্লেট লাগানো একটি ট্রাকে রেশনের চাল বোঝাই করার সময় স্থানীয়দের নজরে আসে পুরো বিষয়টি। বিক্ষোভের মুখে পড়ে তড়িঘড়ি চম্পট দেয় অভিযুক্তরা। পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে চালবোঝাই ট্রাকটি বাজেয়াপ্ত করে বরাহনগর থানার পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পঞ্চবটিতলার ওই গুদামটি এতদিন কেবল গমের আড়ত হিসেবেই পরিচিত ছিল। কিন্তু তার আড়ালেই রেশনের খাদ্যসামগ্রী পাচার করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ। শুক্রবার বিকেলে স্থানীয়রা দেখেন, অন্ধ্রপ্রদেশের রেজিস্ট্রেশনের একটি ট্রাকে বেশ কিছু বস্তা অত্যন্ত তাড়াহুড়ো করে তোলা হচ্ছে। বিষয়টি সন্দেহজনক ঠেকওয়ায় তাঁরা এগিয়ে যান।
কাছে গিয়ে দেখা যায়, বস্তাগুলির গায়ে রাজ্য খাদ্য ও সরবরাহ দপ্তরের ছাপ রয়েছে। শুধু তাই নয়, সেই সরকারি লোগোযুক্ত বস্তা থেকে চাল বের করে অন্য প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে গাড়িতে তোলা হচ্ছিল! এই দৃশ্য দেখেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন এলাকাবাসী। উত্তেজিত জনতা গাড়িটি ঘিরে ধরতেই মালপত্র ওঠানোর কাজে যুক্ত শ্রমিকরা পালিয়ে যায়।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বরাহনগর থানার পুলিশ। পুলিশ প্রায় ৩০ বস্তা চালসহ ট্রাকটিকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। গুদামের চাল আদৌ রেশনের কি না, তা নিশ্চিত করতে খাদ্য পরিদর্শককে দিয়ে তা যাচাই করানো হচ্ছে। সরকারি লোগো ও নামাঙ্কিত বস্তা কীভাবে ওই গুদামে এল, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
এ বিষয়ে স্থানীয় বিধায়ক সজল ঘোষ জানিয়েছেন, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে পুলিশকে। অন্যদিকে, বিজেপির বরাহনগর ১ নম্বর মণ্ডলের প্রাক্তন সভাপতি প্রসেনজিৎ প্রামাণিক বলেন, ‘এর শিকড় আরও গভীরে রয়েছে। একশ্রেণির অসাধু কারবারীর জন্য সাধারণ মানুষ তাঁদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। পুলিশ সঠিক তদন্ত করে এর আসল রহস্য বের করুক, এটাই আমাদের দাবি।’