শুভেন্দুর নিশানায় এসআরএফটিআই, ধর্মনিরপেক্ষতার নামে হিন্দুদের ওপর হামলার অভিযোগ!
বার্তা ডেস্কঃ
কলকাতার সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট (SRFTI)-এর রবিবারের অশান্তি ও সংঘর্ষের ঘটনায় এবার তীব্র আক্রমণ শানালেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর স্পষ্ট অভিযোগ, নিজেদের ধর্মনিরপেক্ষ প্রমাণ করতে গিয়ে অতিবামেরা বারবার হিন্দুদের ওপর আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে। রাজ্যে আধ্যাত্মিক জাগরণ ও সনাতন সংস্কৃতির পুনরুত্থান দেখেই এই শক্তিগুলি আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি।
কী নিয়ে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে SRFTI চত্বর? রবিবার একটি প্রতিবাদ মিছিলকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের রূপ নেয় SRFTI এলাকা। কদিন আগেই ওই প্রতিষ্ঠানে একটি অনুষ্ঠানে বাধা দেওয়া এবং ভারতমাতা ও স্বামী বিবেকানন্দের ছবি ছেঁড়ার অভিযোগ তুলেছিল ‘বঙ্গীয় হিন্দু জাগরণ মঞ্চ’। এই ঘটনার প্রতিবাদেই রবিবার অজয়নগর মোড় থেকে SRFTI-র মূল গেট পর্যন্ত একটি মিছিলের ডাক দেওয়া হয়।
মিছিলটি ক্যাম্পাসের গেটের সামনে পৌঁছতেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, বিক্ষোভকারীরা গেট ধরে ধাক্কাধাক্কি শুরু করেন। অন্যদিকে ক্যাম্পাসের ভেতর থেকে ছাত্র ও শিক্ষকরা প্রতিবাদ জানাতে শুরু করলে দুই পক্ষের মধ্যে ইট ও জলের বোতল ছোড়াছুড়ি হয়। এই সংঘর্ষে অধ্যাপক দেবাশিস সেনশর্মা গুরুতর জখম হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।
অতিবাম ও বাম-জামাত জোটকে একযোগে আক্রমণ শুভেন্দুর শুভেন্দু অধিকারী অভিযোগ করেন, বাংলায় এখন সাধারণ মানুষের মধ্যে শাস্ত্র, সংস্কৃতি ও দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। আর সেই কারণেই অতিবামেরা ইচ্ছাকৃতভাবে অশান্তি তৈরি করছে।
তিনি কটাক্ষের সুরে বলেন, “যাদের দুর্গাপুজো বলতে কষ্ট হয়, পুষ্পাঞ্জলি বা মন্ত্রপাঠ, আরতি করতে অনীহা—এই তথাকথিত মাকুরা গত ৫০ বছর ধরে রাজ্যে এই কালচার চালিয়ে এসেছে। ৩৪ বছরের বাম শাসন আর ১৫ বছরের বর্তমান জমানা—এই দুই পক্ষই আজ এক হয়েছে। রাজ্যে শুদ্ধ শাস্ত্র ও ঐতিহ্যগত আধ্যাত্মিক জাগরণ ঘটছে দেখেই এরা আতঙ্কিত।” একইসঙ্গে তিনি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, উন্নয়নের প্রতিযোগিতায় এরা পিছিয়ে পড়বে জেনেই এখন এসব নোংরা রাজনীতি করছে।
প্রসঙ্গত, SRFTI-র এই অশান্তি ও ছাত্র সংঘর্ষের ঘটনায় ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক পারদ চড়তে শুরু করেছে। একদিকে যেমন দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র বাকযুদ্ধ চলছে, তেমনই ঘটনার নেপথ্যে থাকা প্রকৃত কারণ ও দোষীদের চিহ্নিত করতে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত দাবি করেছে বিভিন্ন মহল।