ডেঙ্গির জোড়া রূপে কাঁপছে শহর, ফেব্রুয়ারিতেও কি মিলবে না রেহাই?

বার্তা ডেস্কঃ

কলকাতা: ক্যালেন্ডারে শরৎ এলেও বর্ষা বিদায় নেয়নি, আর তার সঙ্গেই উৎসবের মরশুমে রাজ্যে জাঁকিয়ে বসেছে ডেঙ্গির আতঙ্ক। স্বাস্থ্য দপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, রাজ্যে ইতিমধ্যে ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা সাড়ে আট হাজার ছাড়িয়ে গিয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে রাজ্যজুড়ে আগামী ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত ‘হলুদ সতর্কতা’ জারি রয়েছে।

জোড়া ‘সেরোটাইপ’-এর মারাত্মক কামড় বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, এ বছর রাজ্যে ডেঙ্গি ছড়াচ্ছে মূলত দুটি ভিন্ন প্রজাতি বা সেরোটাইপের মাধ্যমে— ‘সেরোটাইপ ২’ এবং ‘সেরোটাইপ ৩’।

এর মধ্যে সেরোটাইপ ২ তুলনামূলকভাবে বেশি বিপজ্জনক। চিকিৎসকদের মতে, এই প্রজাতির দরুন ডেঙ্গি হেমারেজিক ফিভার এবং ডেঙ্গি শক সিন্ড্রোমের মতো মারাত্মক শারীরিক জটিলতা দেখা দিতে পারে।

সংক্রমণে শীর্ষে কোন কোন জেলা? রাজ্যে ডেঙ্গির প্রকোপ সবচেয়ে বেশি দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে:

  • প্রথম: মুর্শিদাবাদ
  • দ্বিতীয়: কলকাতা
  • অন্যান্য উদ্বেগজনক জেলা: নদিয়া এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনা।

বিশেষ করে নদিয়া জেলায় উদ্বেগজনক গতিতে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। গত বছরের এই সময়ে যেখানে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৪১৯, এবার তা বেড়ে হয়েছে ৬০৫। নদিয়ার তেহট্ট-১ ব্লকে সবচেয়ে খারাপ অবস্থা (১৪১ জন আক্রান্ত)। এছাড়া চাকদহ পুর এলাকায় ৭৫ জন এবং রানাঘাট-২ ব্লকে ৫৬ জন আক্রান্ত হয়েছেন। ফলে স্থানীয় হাসপাতালগুলিতে রোগীর চাপ আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে।

আশার আলো দেখাবে কি ‘কিউ ডেঙ্গা’? এই আতঙ্কের আবহেই আশার আলো দেখাচ্ছে ডেঙ্গির টিকা ‘কিউ ডেঙ্গা’ (Qdenga)।

  • প্রস্তুতকারক: জাপানের নামী সংস্থা ‘তাকেদা বায়ো ফার্মাসিউটিক্যালস’।
  • কারা নিতে পারবেন: ৪ থেকে ৬০ বছর বয়সি যে কেউ এই প্রতিষেধক নিতে পারবেন। এটি ডেঙ্গির চারটি প্রজাতি থেকেই সুরক্ষা দিতে সক্ষম।
  • বর্তমান অবস্থা: ভারতে ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চ (ICMR)-এর অধীনে এর তৃতীয় দফার ট্রায়াল চলছে। ডিরেক্টর জেনারেল রাজীব বহেল জানিয়েছেন, দ্বিতীয় দফার রিপোর্টে দারুণ ফল মিলেছে।
  • কবে মিলবে ও দাম কত: ড্রাগস কন্ট্রোলার জেনারেল অব ইন্ডিয়া (DCGI) ইতিমধ্যেই এটি বাণিজ্যিক ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছে। কলকাতার বিভিন্ন কেন্দ্রেও এর পরীক্ষা চলছে। সব ঠিক থাকলে আগামী বছরই এটি সাধারণ মানুষের জন্য বাজারে আসতে পারে। ভারতে এর সম্ভাব্য দাম হতে পারে ৮০০ থেকে ১৫০০ টাকার মধ্যে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *