মরুভূমিতে ১৭৪ যাত্রীসহ বিমান ক্র্যাশ, ‘যা করেছি বেশ করেছি’ নির্লজ্জ স্বীকারোক্তি কো-পাইলটের!

বার্তা ডেস্কঃ

নয়া দিল্লি / দুবাই: ১৭৪ জন যাত্রী নিয়ে উড়তে থাকা আস্ত একটি বিমানকে হাইজ্যাক করে সৌদি আরবের নির্জন মরুভূমিতে আছড়ে ফেলার ছক কষেছিলেন ফ্লাইদুবাইয়ের ওমানি কো-পাইলট হামাম আল-হাম্মামি। সম্প্রতি সৌদি তদন্তকারীদের কাছে নিজের এই ভয়াবহ উগ্রপন্থী চক্রান্তের কথা অকপটে স্বীকার করেছেন ২৯ বছর বয়সী এই কো-পাইলট। জিজ্ঞাসাবাদ চলাকালীন তাঁর অহংকারী বক্তব্য— “যা করেছি, বেশ করেছি। আমি মৃত্যুকে ভয় পাই না।”

ইতালীয় সংবাদমাধ্যমের তদন্তমূলক রিপোর্ট অনুযায়ী, ককপিটে ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মছরের ওপর আচমকা হামলা চালানোর পর হাম্মামি শুধু বিমানের অটোপাইলট মোড বন্ধই করেননি, বরং দু’টি ইঞ্জিন স্তব্ধ করে বিমানটিকে মরুভূমির বুকে আছড়ে ফেলার চেষ্টা করেছিলেন।

ককপিটে কী ঘটেছিল সেই রক্তাক্ত মুহূর্তে? আবু ধাবির হাসপাতালের বেড থেকে এবং পরবর্তীতে ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনালাপে সেদিনের মর্মান্তিক অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন ‘সুপারহিরো’ ক্যাপ্টেন স্মিত।

তিনি জানান, নমাজ পড়ার অজুহাত দেখিয়ে ককপিটের পেছনের সিটে যান হাম্মামি। কিছু বুঝে ওঠার আগেই পেছন থেকে স্মিতের মাথায় সজোরে আঘাত করা হয়। প্রথমটায় যান্ত্রিক ঝাঁকুনি মনে হলেও একের পর এক আঘাতে রক্তাক্ত ও দৃষ্টিশক্তি ঝাপসা হয়ে আসা সত্ত্বেও হাল ছাড়েননি স্মিত। ককপিটের মেঝেতে লুটিয়ে পড়েও শেষ শক্তি দিয়ে তিনি দরজার লক খুলে দেন। এরপরই বিমানে থাকা যাত্রী ও অফ-ডিউটি পাইলটরা ককপিটে ঢুকে উগ্রপন্থী কো-পাইলটকে কাবু করেন এবং বিমানটিকে সৌদিতে নিরাপদে অবতরণ করান।

হাম্মামির প্রশংসায় পঞ্চমুখ আল কায়দা: যেখানে ভারতীয় ক্যাপ্টেনের অসীম সাহসিকতাকে কুর্নিশ জানাচ্ছে সমগ্র বিশ্ব, সেখানেই হামলাকারী হাম্মামির সমর্থনে মাঠে নেমেছে আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন ‘আল কায়দা’। ইয়েমেন শাখার আল কায়দা তাদের সাপ্তাহিক পত্রিকার সম্পাদকীয়তে ২০০১ সালের ৯/১১ এবং ৩০ সেপ্টেম্বরের ফ্লাইদুবাই ঘটনার ছবি পাশাপাশি ছাপিয়ে হাম্মামির প্রশংসায় ভরে দিয়েছে। তাদের হুঁশিয়ারি— “ওয়ার ইজ নট ওভার! আমেরিকান ও ইজরায়েলিদের নিয়ে ওড়া বিমানগুলো এখন আর ঝুঁকিমুক্ত নয়।”

কে এই হামাম আল-হাম্মামি? সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, ইউএই-তে জন্ম হলেও হাম্মামির মা ছিলেন সিরীয়। সিরিয়াতেই তাঁর ধর্মান্ধতা ও উগ্রপন্থার মগজধোলাই ঘটেছিল। ২০১৪ থেকে অস্ট্রেলিয়ায় ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার সময় থেকেই তাঁর আচার-আচরণে চরম ধর্মীয় উগ্রতা ধরা পড়ে এবং ২০১৯ সালে তাঁর ভিসা বাতিল হয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় আল কায়দার সাবেক শীর্ষ নেতা আয়মান আল-জ়াওয়াহিরির ছবি পোস্ট করা হাম্মামির বডি ল্যাঙ্গুয়েজে বিন্দুমাত্র অনুশোচনার ছাপ নেই বলে জানান তদন্তকারীরা।

বিশ্বমঞ্চে সম্মানিত ভারতীয় ‘হিরো’: অসীম সাহসিকতায় বড়সড় বিমান বিপর্যয় ও বহু প্রাণ বাঁচানোর জন্য ক্যাপ্টেন স্মিতকে স্যালুট জানাচ্ছে আন্তর্জাতিক মহল। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এই ভারতীয় বীরকে দেখতে এসেছেন দুবাইয়ের যুবরাজ। ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু তাঁকে সেদেশের স্বাধীনতা দিবসে আমন্ত্রণের কথা জানিয়েছেন। ককপিটে স্মিত শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই না চালালে ৯/১১-এর মতো আরও এক মর্মান্তিক বিভীষিকার সাক্ষী থাকত বিশ্ব।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *