১৯ বছর ধরে পুলিশ কী করছিল? মিলন-মামলায় রাজ্যকে তুলোধোনা সুপ্রিম কোর্টের!
বার্তা ডেস্কঃ
নয়াদিল্লি ও কলকাতা: রাজ্য রাজনীতির নজর আজ পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম এবং মুর্শিদাবাদের রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রের দিকে। মঙ্গলবার সকাল থেকেই কড়া নিরাপত্তায় মুড়ে এই দুই কেন্দ্রে শুরু হচ্ছে উপনির্বাচন। গত দু’সপ্তাহ ধরে চলা তীব্র রাজনৈতিক আকচাআকচির পর ভোটের ঠিক আগের দিনই সুপ্রিম কোর্টের তাৎপর্যপূর্ণ পর্যবেক্ষণ এবং কমিশনের বেশ কিছু জরুরি পদক্ষেপে ভোটের আবহ আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
সুপ্রিম কোর্টে ধাক্কা রাজ্যের, পুলিশকে কড়া প্রশ্ন সিজেআই-এর
ভোটের ঠিক আগের দিন নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে ধাক্কা খেল রাজ্য সরকার। কলকাতা হাইকোর্ট মিলনকে ২১ দিনের অন্তর্বর্তী জামিন দিয়েছিল। সেই জামিন বাতিল করতে শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল রাজ্য। কিন্তু প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এতে কোনও অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিতে অস্বীকার করে স্পষ্ট জানায়, “ওঁকে লড়তে দিন, ভোটটা শান্তিপূর্ণভাবে হতে দিন।”
২০০৭ সালের একটি পুরনো মামলায় এতদিন পর মিলনকে কেন গ্রেফতারের চেষ্টা করা হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলে সুপ্রিম কোর্ট। জামিনঅযোগ্য পরোয়ানা থাকা সত্ত্বেও ১৯ বছর ধরে যে পুলিশ অফিসাররা নিষ্ক্রিয় ছিলেন, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন প্রধান বিচারপতি।
নন্দীগ্রামে আইসি বদল, বিতর্ক উড়িয়ে গণনাকেন্দ্র নির্দিষ্ট
ভোটগ্রহণের ২৪ ঘণ্টা আগেই বিরোধীদের পক্ষপাতিত্বের অভিযোগের ভিত্তিতে নন্দীগ্রাম থানার আইসি অজয়কুমার মিশ্রকে সরিয়ে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। তাঁর জায়গায় নতুন আইসি পদে আনা হয়েছে দেবাশিস সরকারকে। অন্যদিকে, নিরাপত্তা ও নিরপেক্ষতার স্বার্থে কংগ্রেস নন্দীগ্রামের ভোট গণনা কেন্দ্র হলদিয়ায় স্থানান্তরের দাবি জানালেও জেলাশাসক নিরঞ্জন কুমার স্পষ্ট করে দেন, কমিশনের নির্দেশে নন্দীগ্রামেই থাকছে ডিসিআরসি ও গণনাকেন্দ্র।
লড়াইয়ের ময়দানে নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর
- নন্দীগ্রাম: বিজেপির তরফে প্রয়াত চন্দ্রনাথ রথের মা হাসিরানি রথ পদ্মপ্রার্থী হয়েছেন। অন্যদিকে কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধান অভিযোগ করেছেন, সোনাচূড়া ও গাংড়া এলাকায় বিজেপি ভোটারদের ভয় দেখাচ্ছে। যদিও সেই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে পদ্ম-শিবিরের দাবি, জয়ের ব্যাপারে তারা শতভাগ নিশ্চিত।
- রেজিনগর: প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীর আসনটি ছেড়ে দেওয়ায় এখানে লড়াই মূলত ছয়মুখী। মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হুমায়ুনের গড়ে তাঁর ছেলে গোলাম নবি আজ়াদ (আমজনতা উন্নয়ন পার্টি) এবং বিজেপি প্রার্থী শাখারভ সরকারের মধ্যে। তবে ভোটের আগের দিন এখানে নতুন করে কোনও অশান্তির খবর মেলেনি।