লন্ডন-ইউরোপ সরাসরি ফ্লাইট ও ৮ নতুন বিমানবন্দর, এভিয়েশনে বড় চমক!
বার্তা ডেস্কঃ
কলকাতা: কলকাতা থেকে সরাসরি ইংল্যান্ড ও ইউরোপে বিমান চলাচল শুরু এবং রাজ্যের সামগ্রিক বিমান পরিকাঠামোর প্রসারে একযোগে ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিল রাজ্য ও কেন্দ্র। সোমবার এক গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রী কিঞ্জরাপু রামমোহন নাইডু ও রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষ প্রতিনিধিদলের উপস্থিতিতে ৪টি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছে।
এই চুক্তির মাধ্যমে রাজ্যে ৮টি নতুন বিমানবন্দর তৈরি, কলকাতার কাছে দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণ এবং বেহালা ফ্লাইং ক্লাবে অত্যাধুনিক পাইলট ট্রেনিং হাব গঠনের মতো একাধিক মেগা প্রকল্পের ঘোষণা করা হয়েছে।
বেহালায় পাইলট ট্রেনিং ও ইউরোপে সরাসরি ফ্লাইট
কলকাতা থেকে লন্ডন তথা ইউরোপের বিভিন্ন শহরে সরাসরি বিমান পরিষেবা চালুর জন্য রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় সরকারকে বিশেষ অনুরোধ জানানো হয়। এর পাশাপাশি, রাজ্যের যুবসমাজকে বৈমানিক বা পাইলট হিসেবে গড়ে তুলতে বেহালা ফ্লাইং ক্লাবকে আধুনিক এভিয়েশন ট্রেনিং হাবে রূপান্তরের জোরালো সওয়াল করা হয়।
এই প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে রাজ্যে আকাশপথের যোগাযোগের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। এতে বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির পাশাপাশি কৃষি ও খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ খাতের বাণিজ্যে নতুন জোয়ার আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
৮টি নতুন বিমানবন্দর ও কলকাতার দ্বিতীয় এয়ারপোর্ট
অনুষ্ঠানে উপস্থিত কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রী কিঞ্জরাপু রামমোহন নাইডু জানান, ইতিমধ্যে বেহালা ফ্লাইং ক্লাব পরিদর্শন করা হয়েছে এবং সেখানে দ্রুত পাইলট প্রশিক্ষণ প্রকল্প চালুর পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হচ্ছে।
ঘোষণার মূল বিষয়গুলো:
- ৮টি নতুন বিমানবন্দর: রাজ্যের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা মজবুত করতে জেলাজুড়ে ৮টি নতুন বিমানবন্দর ও এয়ারস্ট্রিপ চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
- জমি জটের অবসান: পূর্বে জমি জটিলতায় হাসিমারা ও কলাইকুন্ডা বিমানবন্দরের কাজ থমকে থাকলেও, এখন কেন্দ্র ও রাজ্য একযোগে সেই জট ছাড়িয়ে উন্নয়নের গতি বাড়াচ্ছ।
- কলকাতায় দ্বিতীয় বিমানবন্দর: নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ওপর ক্রমাগত যাত্রীর চাপ সামলাতে এবং আন্তর্জাতিক কানেক্টিভিটি বাড়াতে কলকাতার কাছেই দ্বিতীয় একটি বিমানবন্দর গড়ে তোলা হবে।
কেন্দ্রীয় সরকার আগামী ১০ বছরে দেশে ১০০টি নতুন বিমানবন্দর তৈরি ও আধুনিকীকরণের লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কেন্দ্র-রাজ্যের এই যৌথ সমঝোতার ফলে বাংলায় আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালু, বৈমানিক প্রশিক্ষণ এবং কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে এক অভূতপূর্ব পরিবর্তন আসতে চলেছে।