অভিষেকের নিরাপত্তা ছাঁটাই নিয়ে হাইকোর্টের তোপ, রাজ্যের কাছে তলব রিপোর্ট!
বার্তা ডেস্কঃ
কলকাতা: তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘জেড প্লাস’ (Z+) নিরাপত্তা প্রত্যাহার এবং তা এক ধাক্কায় ‘এক্স’ (X) ক্যাটাগরিতে নামিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়ে রাজ্য সরকারের কাছ থেকে বিস্তারিত রিপোর্ট চাইল কলকাতা হাইকোর্ট। মঙ্গলবার শুনানির সময় বিচারপতি কৃষ্ণা রাও রাজ্য প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে প্রশ্ন তোলেন, ১০ মে কেন কোনো নোটিস ছাড়াই এত তাড়াহুড়ো করে নিরাপত্তা প্রত্যাহার করা হলো?
আদালত রাজ্যকে নির্দেশ দিয়েছে, আগামী ১৩ অক্টোবরের মামলার পরবর্তী শুনানিতে এই সিদ্ধান্তের যাবতীয় কারণ ও ব্যাখ্যাসহ পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট জমা দিতে হবে।
নিরাপত্তা ছাঁটাই ও পরপর ৪টি হামলা: আদালতে অভিষেকের আইনজীবী নিরাপত্তার পর্যায়ক্রমিক ইতিহাস তুলে ধরে জানান, ২০১৩ সালে তাঁর মক্কেলকে ‘ওয়াই’ ক্যাটাগরির নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে ২০১৪ সালে ‘ওয়াই প্লাস’, ২০১৫ সালে ‘জেড’ এবং ২০১৬ সাল থেকে তিনি ‘জেড প্লাস’ নিরাপত্তা পাচ্ছিলেন। কিন্তু গত বিধানসভা নির্বাচনের পর ১০ মে কোনো অগ্রিম বিজ্ঞপ্তি বা কারণ দর্শানো ছাড়াই তাঁর নিরাপত্তা কমানো হয় এবং মাত্র দু’জন নিরাপত্তারক্ষী রেখে ‘এক্স’ ক্যাটাগরিতে নামিয়ে আনা হয়।
আইনজীবী অভিযোগ করেন, নিরাপত্তা কমানোর মাত্র ১৯ দিনের মাথায় দক্ষিণ শহরতলির সোনারপুরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে লক্ষ্য করে প্রায় ৫০০ জন লাঠি, ডিম ও পাথর নিয়ে চড়াও হয়। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছায় যে, নিরাপত্তার খাতিরে হেলমেট পরে মোটরবাইকে চেপে তাঁকে এলাকা ছাড়তে হয়েছিল। এছাড়া কলকাতা বিমানবন্দরে রিভলভার হাতে সন্দেহভাজন ব্যক্তির উপস্থিতি, ডায়মন্ড হারবারের আমতলায় দলীয় কার্যালয়ে হামলা এবং ক্যামাক স্ট্রিটের অফিসে গোলমালের মতো চারটি বড় ঘটনার কথা আদালতে তুলে ধরা হয়।
আদালতের তীক্ষ্ণ পর্যবেক্ষণ: রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, নিয়ম অনুযায়ী ‘থ্রেট পারসেপশন’ বা নিরাপত্তার ঝুঁকি পর্যালোচনা করেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রের অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল ধীরজ ত্রিবেদী জানান, থ্রেট পারসেপশন মূল্যায়নের দায়িত্ব মূলত রাজ্য পুলিশের।
তবে নথিপত্র দেখে বিচারপতি কৃষ্ণা রাও প্রশ্ন তোলেন, যদি পুলিশের সংশ্লিষ্ট যুগ্ম কমিশনার ১২ মে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন, তবে তার দু’দিন আগে অর্থাৎ ১০ মে কীভাবে নিরাপত্তা প্রত্যাহার করা হলো?
বিচারপতি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ইতিমধ্যে চারটি অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে গিয়েছে, এর দায় কে নেবে? সোনারপুরে পাথর লাগলে কী হতো?” রাজ্য সরকার এই বিষয়ে উত্তর দেওয়ার জন্য তিন সপ্তাহের সময় চাইলেও আদালত তা মঞ্জুর করেনি। আগামী ১৩ অক্টোবরের মধ্যেই যাবতীয় ব্যাখ্যাসহ রিপোর্ট পেশের কড়া নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি।