২০২৯-এ ৪২টি আসনই মোদীর ঝুলিতে, হুঙ্কার শুভেন্দুর!
বার্তা ডেস্কঃ
আগামী ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গের ৪২টি আসনের সবকটিতেই জয়লাভ করবে বিজেপি— এমনই জোরালো ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে এই ৪২টি আসন উপহার হিসেবে তুলে দেওয়ার অঙ্গীকার করেন তিনি।
বুধবার গুজরাটের ভাওনগরে জনপ্রতিনিধি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে এই কথা জানান শুভেন্দু অধিকারী। এই কর্মসূচিতে অংশ নিতে তিনি নিজের পূর্বনির্ধারিত পাহাড় সফর কাটছাট করে গুজরাট যান।
মঞ্চ থেকে বক্তব্য রাখার সময় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে আমরা সর্বশক্তি দিয়ে লড়াই করব এবং বাংলা থেকে ৪২টি আসনই জয় করব।” ২০১৯ সালের ১৮টি এবং ২০২৪ সালের ১২টি আসন জয়ের পরিসংখ্যানকে পেছনে ফেলে এবার সবকটি আসন জেতাই বিজেপির প্রধান লক্ষ্য বলে জানান তিনি।
বক্তব্যে নাম না করে তোষণের রাজনীতির কঠোর সমালোচনা করে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, পূর্ববর্তী সরকারের ভুল সিদ্ধান্ত, ভ্রান্ত নীতি ও তোষণ রাজনীতির কারণেই পশ্চিমবঙ্গ আজ পিছিয়ে পড়েছে। তবে বর্তমানে জনগণ আসল উন্নয়নের পার্থক্য বুঝতে পারছেন। ‘প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা’ থেকে শুরু করে ‘আয়ুষ্মান ভারত’-এর মতো প্রকল্পের সুফল আজ কোটি কোটি মানুষের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে।
অনুপ্রবেশ ও সীমান্ত সুরক্ষা ইস্যুতে সরব হয়ে তিনি দাবি করেন, তৎকালীন শাসনামলে লাখ লাখ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী বাংলা হয়ে ভারতে প্রবেশ করেছে, যার মধ্যে প্রায় তিন লাখ অনুপ্রবেশকারী গুজরাটেও পৌঁছে গিয়েছে। বিএসএফ-কে জমি না দেওয়ার ফলে প্রায় ৬০০ কিলোমিটার আন্তর্জাতিক সীমান্ত অরক্ষিত অবস্থায় পড়েছিল। তবে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর জমি হস্তান্তরের কাজ দ্রুত গতিতে শুরু হয় এবং ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় জমির ৯০ শতাংশের বেশি দেওয়া সম্পন্ন হয়েছে।
পাশাপাশি, পূর্ববর্তী সময়ে ধর্মীয় অনুষ্ঠানে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, একসময় দুর্গাপুজো আয়োজনের জন্যও মানুষকে আদালতের দ্বারস্থ হতে হতো এবং রাম নবমীর শোভাযাত্রার অনুমতি পর্যন্ত মিলত না।
উল্লেখ্য, নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়ামেও ‘সেবা জ্যোতি যাত্রা’ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছিল, যেখানে নতুন দিল্লি থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বার্তা সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। কেন্দ্রীয় ক্যাবিনেট মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজেও উপস্থিত থেকে এই সরাসরি সম্প্রচার প্রত্যক্ষ করেন।