মধ্যরাতে রণক্ষেত্র বিশ্বভারতী, উপাচার্যের গেট টপকে উত্তাল পড়ুয়ারা!

বার্তা ডেস্কঃ

বাজি ফাটানোকে কেন্দ্র করে পড়ুয়াদের দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষে চরম উত্তেজনা ছড়াল বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে। পরিস্থিতি সামাল দিতে মধ্যরাতেই ঘটনাস্থলে ছুটতে হয় শান্তিনিকেতন থানার পুলিশকে। ঘটনায় উপাচার্যের বাসভবনের গেট ডিঙিয়ে ঢুকতে গিয়ে নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গেও ধস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড়েন ক্ষুব্ধ ছাত্ররা।

স্থানীয় ও বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার রাত আনুমানিক ৩টে নাগাদ শান্তিনিকেতনের পূর্বপল্লি বয়েজ় হস্টেলে আচমকাই বাজি ফাটাতে শুরু করেন কিছু পড়ুয়া। গভীর রাতে বাজির বিকট শব্দে অন্য আবাসিকদের ঘুম ভেঙে গেলে তাঁরা প্রতিবাদ জানান। তা নিয়েই শুরু হয় কথা-কাটাকাটি, যা অল্প সময়ের মধ্যেই চরম হাতাহাতিতে রূপ নেয়। সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পুরো হস্টেল চত্বর।

পড়ুয়াদের একাংশের অভিযোগ, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা জোরদার করতে তাঁরা প্রক্টরের দফতরে বারবার ফোন করেন। কিন্তু সেখান থেকে কোনো সাড়া মেলেনি। বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষের এমন উদাসীনতায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন হস্টেলের আবাসিকেরা।

প্রশাসনের ওপর আস্থা হারিয়ে শেষমেশ অভিযোগ জানাতে সরাসরি উপাচার্য প্রবীরকুমার ঘোষের বাসভবনের দিকে রওনা হন আবাসিকরা। সেখানে ‘মাঝের গেট’ বন্ধ থাকায় ক্ষুব্ধ পড়ুয়ারা তা টপকে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করেন। কর্তব্যরত নিরাপত্তারক্ষীরা তাঁদের বাধা দিলে শুরু হয় তুমুল বচসা ও ধস্তাধস্তি। মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে।

খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় শান্তিনিকেতন থানার পুলিশ দল। একই সঙ্গে গভীর রাতে হস্টেলে যান প্রক্টর অফিসের আধিকারিকরাও। তবে এই পুরো অপ্রীতিকর ঘটনা প্রসঙ্গে বিশ্বভারতীর ভারপ্রাপ্ত জনসংযোগ আধিকারিক অতীগ ঘোষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে চাননি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *