হুথি দমনে মাঠে পাকিস্তান, ইয়েমেনের আকাশে কি বড় কোনো যুদ্ধ শুরু হলো?

বার্তা ডেস্কঃ

ইসলামাবাদ ও রিয়াদ: মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এক নজিরবিহীন মোড়। ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে অংশ নিয়েছে পাকিস্তান। ‘দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস’-এর একটি চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ‘মক্কা ডিফেন্স অ্যালায়েন্স’ সক্রিয় হওয়ার পর সৌদি আরবকে সামরিক সহায়তা কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে ইসলামাবাদ। পাকিস্তানের বিমানবাহিনীর (PAF) যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে হুথিদের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হচ্ছে বলে আন্তর্জাতিক সূত্রে জানা গেছে।

সক্রিয় ‘মক্কা ডিফেন্স অ্যালায়েন্স’ গত আগস্টে পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্ক যৌথভাবে ন্যাটোর আদলে একটি ঐতিহাসিক প্রতিরক্ষা চুক্তিতে স্বাক্ষর করে, যা ‘মক্কা ডিফেন্স অ্যালায়েন্স’ নামে পরিচিত। এই চুক্তির মূল শর্ত অনুযায়ী, তিন দেশের যে কোনো একটির ওপর আক্রমণ হলে তা বাকি দুই দেশের ওপর হামলা হিসেবে গণ্য হবে। অতি সম্প্রতি রিয়াদে তিন দেশের কৌশলগত রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা কমিটির জরুরি বৈঠকের পর এই চুক্তিকে পূর্ণমাত্রায় কার্যকর করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

সৌদিতে ৮ হাজার পাকিস্তানি সেনা ‘নিউ ইয়র্ক টাইমস’ এবং ‘সিএনএন’-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, বর্তমানে সৌদি আরবে প্রায় ৮,০০০ পাকিস্তানি সামরিক কর্মী মোতায়েন রয়েছেন। মার্কিন সেনাবাহিনীর প্রাক্তন অ্যাটাশে কর্নেল ডেভিড ও স্মিথের মতে, এই সামরিক বহরে পাকিস্তান বিমানবাহিনী এবং আর্মি এয়ার ডিফেন্সের দক্ষ সদস্যরা রয়েছেন। মূলত সৌদির গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিকাঠামো ও আকাশসীমাকে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা থেকে রক্ষা করাই এদের প্রধান কাজ।

পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর গণমাধ্যম শাখা (ISPR)-র প্রধান লেফট্যানেন্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী সিএনএন-কে সৌদিতে পাক সেনার উপস্থিতির কথা নিশ্চিত করলেও, নিরাপত্তার স্বার্থে তাঁদের নির্দিষ্ট সংখ্যা বা সক্ষমতা নিয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।

স্থলযুদ্ধ নয়, সীমিত আকাশপথের লড়াই বিশ্লেষকদের ধারণা, বিমান সহায়তা ও আকাশ প্রতিরক্ষা জোরদার করলেও ইয়েমেনের মাটিতে সরাসরি স্থলসেনা পাঠাবে না ইসলামাবাদ। ২০১৫ সালে ইয়েমেন সংঘাত থেকে দূরে থাকার পক্ষে ভোট দিয়েছিল পাকিস্তানের সংসদ। তবে এক দশক পর ‘মক্কা ডিফেন্স অ্যালায়েন্স’-এর আওতায় সৌদিকে সুরক্ষা দিতে গিয়ে ফের মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ল পাকিস্তান।

ইরান ও সৌদির মাঝে কঠিন ভারসাম্যের পরীক্ষা ঐতিহাসিকভাবে সৌদি আরবের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক থাকলেও, প্রতিবেশী ইরানের সঙ্গে সরাসরি সংঘাত এড়িয়ে চলাই পাকিস্তানের কূটনৈতিক কৌশল। এবার প্রকাশ্যে হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে অভিযানে অংশ নেওয়ায় তেহরানের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্কে নতুন করে টানাপোড়েন তৈরি হতে পারে। রিয়াদের সঙ্গে সামরিক প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা এবং তেহরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সংঘাত এড়িয়ে চলার এই টানাপোড়েন এখন ইসলামাবাদের জন্য এক বিরাট ভূ-রাজনৈতিক পরীক্ষা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *