কলেজের জমিতে নয়ছয়, বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে তোলপাড়!
বার্তা ডেস্কঃ
রাজ্যে শাসকদলের একাধিক নেতা-মন্ত্রীর পর এবার দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগে নাম জড়াল রাজ্য বিধানসভার প্রাক্তন স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের। হরিমোহন ঘোষ কলেজের জমি ব্যবহার করে বাণিজ্যিক অডিটোরিয়াম নির্মাণ এবং সেখান থেকে উপার্জিত মোটা অঙ্কের টাকা আত্মসাতের চাঞ্চল্যকর অভিযোগে এবার তাঁর দিকে নজর পড়েছে রাজ্য প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি কমিশনের।
অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে কলকাতার হরিমোহন ঘোষ কলেজ। সূত্রের খবর, কলেজের জমিতে গড়ে তোলা অডিটোরিয়ামটি সমস্ত নিয়ম শিকেয় তুলে বিভিন্ন বেসরকারি ও বাণিজ্যিক অনুষ্ঠানের জন্য ভাড়া দেওয়া হতো। সেখান থেকে প্রাপ্ত অর্থ কলেজের নিজস্ব তহবিলে জমা না পড়ে নয়ছয় করা হয়েছে বলে অভিযোগ। বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় ওই কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি থাকাকালীনই এই ক্ষমতার অপব্যবহার ও আর্থিক অনিয়ম ঘটেছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।
ঘটনার তদন্তে নেমে ইতিমধ্যেই স্থানীয় কাউন্সিলর রঞ্জিত শীলকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে কমিশন। পরবর্তীতে আরও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি ও তথ্য-প্রমাণ হাতে আসায় তদন্তের পরিধি আরও বৃদ্ধি করা হয়েছে। গভর্নিং বডির সভাপতি হিসেবে বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুমোদন কীভাবে পাওয়া গিয়েছিল এবং এই পুরো বাণিজ্যিক চক্রের নেপথ্যে আর কার কার হাত রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
যদিও নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ একবাক্যে খারিজ করে দিয়েছেন প্রাক্তন স্পিকার। প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, “আমি এসবের সঙ্গে কোনোভাবেই যুক্ত নই। টিভিতে প্রথম অভিযোগের কথা জানতে পেরেছি। কমিউনিটি হল ভাড়া দেওয়া হতো ঠিকই, কিন্তু কীভাবে তা পরিচালনা করা হতো সে বিষয়ে আমার কাছে কোনো খবর নেই।”
উল্লেখ্য, ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্য জুড়ে প্রবল বিরোধী হাওয়া সত্ত্বেও বারুইপুর পশ্চিম আসনটি নিজের দখলে রেখেছিলেন বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোটের পর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বদলে গেলেও এবং একের পর এক বিধায়ক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গ ছাড়লেও, তিনি দলনেত্রীর পাশেই অটল থেকেছেন। তবে এবার দুর্নীতি কমিশনের স্ক্যানারে তাঁর নাম ওঠায় রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।