নির্বাচনের হার নিয়ে নালিশ কেন, প্রাক্তন আমলাদের তোপ বিরোধীদের দিকে!
বার্তা ডেস্কঃ
নির্বাচন কমিশন (EC) এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে দেশজুড়ে রাজনৈতিক তর্জার মাঝেই কমিশনের পাশে এসে দাঁড়ালেন দেশের ১২৪ জন প্রাক্তন আমলা ও অভিজ্ঞ কূটনীতিক। নাগরিকদের উদ্দেশ্যে লেখা এক খোলা চিঠিতে তাঁরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, নির্বাচন ব্যবস্থার ওপর কারচুপির মতো গুরুতর অভিযোগ তোলার আগে তার সপক্ষে উপযুক্ত ও বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। ভিত্তিহীন অভিযোগের ফলে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলির প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা ডগমগ হয়ে পড়ে।
‘জিতলে সৎ, হারলে কারচুপি?’ — বিরোধীদের প্রশ্ন প্রাক্তন আধিকারিকদের চিঠিতে প্রাক্তন প্রশাসনিক কর্তারা একটি গুরুত্বপূর্ণ যুক্তি তুলে ধরেছেন। তাঁরা প্রশ্ন তোলেন, একই নির্বাচনী ব্যবস্থায় ভোটে জিতলে সেই প্রক্রিয়াকে নিরপেক্ষ বলা হয়, আর হেরে গেলেই ‘কারচুপি’র অভিযোগ তোলা হয় কেন? ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়া এবং একাধিক রাজ্যে বিরোধী দলগুলির জয়লাভের উদাহরণ দিয়ে চিঠিতে বলা হয়, ব্যবস্থাটি যদি সততাই হারিয়ে থাকে, তবে বিরোধী জয়গুলিও কি প্রশ্নের মুখে পড়বে না?
একই সাথে চিঠিতে ইভিএম-এর নিরাপত্তা, ভোটকেন্দ্রে সব দলের এজেন্টের উপস্থিতি, কড়া নিরাপত্তার মধ্যে স্ট্রংরুম রক্ষা এবং ভিভিপ্যাট (VVPAT) পরীক্ষার ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করে নির্বাচন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।
ভোটার তালিকা সংশোধনের (SIR) পক্ষে স্পষ্ট যুক্তি কমিশনের ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে বিরোধীদের আপত্তির পাল্টা যুক্তি দিয়ে প্রাক্তন আমলারা বিহারের উদাহরণ টেনেছেন। সেখানে SIR প্রক্রিয়ার মাধ্যমে:
- প্রায় ২২ লক্ষ মৃত ভোটারের নাম চিহ্নিত করে বাদ দেওয়া হয়েছে।
- প্রায় ৭ লক্ষ ভুয়া/ডুপ্লিকেট নাম তালিকা থেকে সরানো হয়েছে।
- নতুন করে যুক্ত হয়েছেন প্রায় ২১.৫ লক্ষ ভোটার।
আমলাদের বক্তব্য, একটি নিখুঁত ও স্বচ্ছ নির্বাচনের জন্য ভোটার তালিকা নির্ভুল করা অত্যন্ত জরুরি। এই প্রক্রিয়ায় আপত্তি জানানো, শুনানি এবং রাজনৈতিক দলগুলির বুথ লেভেল এজেন্টের (BLA) সক্রিয় অংশগ্রহণের পূর্ণ সুযোগ রয়েছে।
গণতন্ত্র রক্ষায় প্রমাণের ওপর জোর কমিশন ও বর্তমান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের প্রতি বিরোধীদের ক্ষোভ যখন তুঙ্গে, ঠিক সেই সময়েই প্রাক্তন আমলাদের এই সমর্থন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তাঁরা সর্বসাধারণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, নির্বাচন কমিশনের মতো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের ওপর অহেতুক অবিশ্বাস না রেখে, কোনো অভিযোগ থাকলে তা যেন সঠিক তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে পেশ করা হয়।