পুজোর ছুটির মধ্যেই স্বাস্থ্য কার্ড জমার নির্দেশ, চরম বিপাকে সরকারি কর্মীরা!
বার্তা ডেস্কঃ
রাজ্য সরকারের কর্মী ও পেনশনভোগীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা জারি করল অর্থ দপ্তর। পশ্চিমবঙ্গ স্বাস্থ্য প্রকল্পের (WBHS) আওতাভুক্ত সমস্ত সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগীদের এবার থেকে স্বাস্থ্য সাথী এবং আয়ুষ্মান ভারত কার্ড জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী ৩১ অক্টোবর ২০২৬ এই কার্ড জমা দেওয়ার শেষ দিন ধার্য করা হয়েছে। তবে দুর্গাপুজোর ছুটির মাঝেই এই নির্দেশিকা আসায় তীব্র অসন্তোষ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে কর্মীদের একাংশের মধ্যে।
কার্ড জমা সংক্রান্ত জরুরি তথ্য:
- কারা জমা দেবেন: WBHS-এর আওতাভুক্ত সরকারি কর্মী, সর্বভারতীয় সার্ভিস (AIS) আধিকারিক, পেনশনভোগী এবং ফ্যামিলি পেনশনাররা। নিজেদের পাশাপাশি পরিবারের নির্ভরশীল সদস্যদের কার্ডও জমা দিতে হবে।
- কোথায় ও কীভাবে জমা দেবেন: কর্মরত কর্মীরা নিজেদের অফিসের প্রধানের কাছে এবং পেনশনভোগীরা সংশ্লিষ্ট পেনশন নিষ্পত্তিকারী অফিসে নথি জমা দেবেন। কার্ড জমা দেওয়ার পর প্রাপ্ত Acknowledgement Slip (রসিদ) এবং Annexure-A ঘোষণাপত্র জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক।
- সময়সীমা: ৩১ অক্টোবরের মধ্যে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কার্ড জমা না দিলে WBHS-এর ক্যাশলেস চিকিৎসা সুবিধা সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যেতে পারে এবং বিভাগীয় পদক্ষেপও নেওয়া হতে পারে।
পুজো ও ছুটির বেড়াজালে বাড়1ছে চিন্তা:
গত ৯ অক্টোবর অর্থ দপ্তর এই নির্দেশিকা জারি করে। এর পর শনি ও রবিবার ছুটির পর থেকেই রাজ্যে শুরু হয়ে গিয়েছে দুর্গাপুজোর দীর্ঘ ছুটি। ফলে হাতে মাত্র ৬ থেকে ৭ দিন কাজের দিন পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ করে যাঁদের পোস্টিং বাড়ি থেকে দূরে, তাঁদের পক্ষে এই স্বল্প সময়ে বিডিও অফিস বা পুরসভায় গিয়ে কার্ড জমা দেওয়া এক প্রকার আসাম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া রসিদ হারিয়ে যাওয়া, নাম পরিবর্তন বা অন্যান্য কারিগরি বিষয়গুলি নিয়ে এখনও স্পষ্ট কোনও নির্দেশিকা না আসায় বিভ্রান্তি আরও বেড়েছে।
সময়সীমা বাড়ানোর জোরালো দাবি:
এই পরিস্থিতিতে কর্মী সংগঠনগুলির পক্ষ থেকে কার্ড জমা দেওয়ার শেষ দিন ৩১ অক্টোবর থেকে বাড়িয়ে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ করার দাবি তোলা হয়েছে। পাশাপাশি, অফলাইনের পরিবর্তে অনলাইনে পোর্টাল চালুর মাধ্যমে কিংবা নিজ নিজ কর্মস্থলের অফিস থেকেই কার্ড জমা দেওয়ার বন্দোবস্ত করার দাবি জানিয়েছে তারা। এখন দেখার বিষয়, রাজ্য অর্থ দপ্তর এই পরিস্থিতি বিবেচনা করে সময়সীমা বাড়ায় কি না।