গ্রুপ-ডি কর্মীদের জন্য দারুণ সুখবর, এবার সহজেই মিলবে গ্রুপ-সি পদে পদোন্নতি!
বার্তা ডেস্কঃ
কলকাতা: রাজ্য সরকারি দপ্তরের চুক্তিভিত্তিক গ্রুপ-ডি কর্মীদের ভবিষ্যৎ ও কর্মজীবনের অগ্রগতি নিয়ে বড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে রাজ্য সরকার। এবার কর্মীদের যোগ্যতা ও কাজের দক্ষতা যাচাই করে তাঁদের পদোন্নতির পাশাপাশি সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে।
বর্তমানে বহু দপ্তরে উপযুক্ত যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও সঠিক ব্যবস্থার অভাবে কর্মীরা উচ্চতর পদের দায়িত্ব পাচ্ছিলেন না। সরকারের নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, যোগ্য প্রার্থীরা পরীক্ষার মাধ্যমে গ্রুপ-সি পদে পদোন্নতির (Promotion) সুযোগ পাবেন। অন্যদিকে, যাঁরা পরীক্ষায় সফল হতে পারবেন না, তাঁদেরও বিকল্প পদে সম্মানজনকভাবে কাজে লাগানোর চিন্তাভাবনা রয়েছে।
কেন এই নতুন পরিকল্পনা?
নবান্নের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, সব চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের একই মানদণ্ডে বিচার করা ঠিক নয়। অনেকেরই উচ্চতর পদের কাজ সামলানোর মতো শিক্ষাগত যোগ্যতা ও দক্ষতা রয়েছে।
উদাহরণস্বরূপ, সেচ ও জলসম্পদ দপ্তরেই প্রায় ৩,২০০ জন চুক্তিভিত্তিক গ্রুপ-ডি কর্মী রয়েছেন। অতীতে বাড়ির কাছাকাছি বদলির কারণে কিছু দপ্তরে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি কর্মী হয়ে যান, অথচ সুনির্দিষ্ট পদ বা দায়িত্ব না থাকায় তাঁদের পূর্ণ ক্ষমতা ব্যবহার করা যাচ্ছিল না। এই বৈষম্য ও অসন্তোষ দূর করতেই নতুন প্রস্তাব এনেছে সংশ্লিষ্ট দপ্তর।
কীভাবে হবে বাছাই ও পদোন্নতি?
প্রস্তাবিত নতুন নিয়ম অনুযায়ী:
- শিক্ষাগত যোগ্যতা: অন্তত মাধ্যমিক বা সমতুল্য পাশ হতে হবে।
- মূল্যায়ন পদ্ধতি:
- ৭৫% নম্বর: লিখিত/বাছাই পরীক্ষা (Screening Test)।
- ২৫% নম্বর: মৌখিক পরীক্ষা (Viva-voce), যা নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে অন্য দপ্তরের স্বাধীন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নেওয়া হতে পারে।
- পদের সুযোগ: দুই পরীক্ষার মেধা তালিকার ওপর ভিত্তি করে ওয়ার্ক অ্যাসিস্ট্যান্ট, লোয়ার ডিভিশন ক্লার্ক (LDC) এবং কম্পিউটার অপারেটরের মতো খালি গ্রুপ-সি পদগুলিতে নিয়োগ দেওয়া হবে।
যাঁরা উত্তীর্ণ হতে পারবেন না, তাঁদের কী হবে?
যাঁরা মেধা তালিকায় প্রথম সারিতে আসতে পারবেন না, তাঁদের চাকরি নিয়ে চিন্তার কিছু নেই। তাঁদের জন্য বিকল্প কাজের পরিকল্পনা রাখা হয়েছে:
- বিকল্প পদ: পিওন, রেকর্ড কিপার, পাম্প অপারেটর, বরকন্দাজ, নাইট গার্ড বা খালাসি ইত্যাদি পদে নির্দিষ্ট দায়িত্বে আনা হবে।
- অতিরিক্ত সুবিধা: কাজের ধরনের ওপর ভিত্তি করে অতিরিক্ত ইনক্রিমেন্ট (Incriments) দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
- পোস্টিং: যাতায়াতের সুবিধার কথা ভেবে কর্মীদের বাড়ির কাছাকাছি বা সুবিধাজনক অফিসে পোস্টিং দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।
সব মিলিয়ে, যোগ্যতার সঠিক মূল্যায়ন করে চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের কর্মজীবনে উন্নতির সুযোগ করে দেওয়াই রাজ্য সরকারের এই নতুন উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।