ভোট চুরির অভিযোগে সুপ্রিম কোর্টে রাহুল, নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক লড়াই!
বার্তা ডেস্কঃ
নয়াদিল্লি: মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের অবিলম্বে পদত্যাগ এবং দেশজুড়ে ‘ভোট চুরি’ ও ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়ায় ব্যাপক কারচুপির বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে এবার সরাসরি আইনি লড়াইয়ের ময়দানে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। সোমবার অপরাহ্নে ভারতের নির্বাচন কমিশন (ECI)-এর বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে এক চাঞ্চল্যকর রিট পিটিশন দায়ের করেছেন তিনি।
সুপ্রিম কোর্টের মূল কাউন্টার বন্ধ হওয়ার ঠিক প্রাক-মুহূর্তে প্রখ্যাত অ্যাডভোকেট-অন-রেকর্ড এস প্রসন্ন এই হাই-প্রোফাইল আইনি আবেদনটি নথিবদ্ধ করেন।
ঐতিহাসিক ‘রাহুল গান্ধী বনাম নির্বাচন কমিশন’ লড়াই
দেশজুড়ে জল্পনা উস্কে দেওয়া এই তাৎপর্যপূর্ণ মামলার প্রাতিষ্ঠানিক শিরোনাম দেওয়া হয়েছে— “রাহুল গান্ধী বনাম নির্বাচন কমিশন অফ ইন্ডিয়া” (Rahul Gandhi vs Election Commission of India)।
কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে ও রাহুল গান্ধীর যৌথ উদ্যোগে দায়ের করা এই পিটিশনে নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে সুনির্দিষ্ট কী কী আইনি যুক্তি তুলে ধরা হয়েছে এবং শীর্ষ আদালতের কাছে জরুরিভিত্তিতে কী কী পদক্ষেপ বা প্রতিকার দাবি করা হয়েছে, তার বিশদ বিবরণ খুব শীঘ্রই প্রকাশ্যে আসতে চলেছে।
সুপ্রিম কোর্টে বিশেষ অনুমতি ও রাজপথে আছড়ে পড়া ক্ষোভ
আদালত সূত্রে খবর, রাহুল গান্ধীর আইনজীবী দল শীর্ষ আদালতের রেজিস্ট্রি বিভাগের কাছে সশরীরে উপস্থিত হয়ে নথিপত্র জমা দেওয়ার সময়সীমা সামান্য বাড়ানোর বিশেষ আর্জি জানিয়েছিল। ভারতের প্রধান বিচারপতির সবুজ সংকেত মেলার পর কংগ্রেসের ১০-১৫ জনের একটি প্রতিনিধিদল সুপ্রিম কোর্টে প্রবেশ করে। কড়া নিরাপত্তার ঘেরাটোপেই আইনি কাউন্টারে পিটিশন জমা দেন তাঁরা।
অন্যদিকে, এদিন সকালেই দিল্লির কনট প্লেস থেকে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত এক বিশাল ‘ডেমোক্রেসি মার্চ, জাস্টিস মার্চ’ (গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচারের জন্য পদযাত্রা)-এর নেতৃত্ব দেন রাহুল গান্ধী এবং ‘ইন্ডিয়া’ জোটের শীর্ষ নেতারা। একদিকে দিল্লির রাজপথে বিরোধী আন্দোলনের উত্তাপ, আর অন্যদিকে সুপ্রিম কোর্টে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সরাসরি আইনি যুদ্ধ— সব মিলিয়ে দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এক নজিরবিহীন ও ঐতিহাসিক মোড় তৈরি হলো।