ইউপি বোর্ডের টপার থেকে দেশের ২৬তম সিইসি, কে এই জ্ঞানেশ কুমার?
বার্তা ডেস্কঃ
সাম্প্রতিক একটি বিস্ফোরক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত জাতীয় রাজনীতি। ভারতীয় নির্বাচন কমিশনের অন্দরের সমীকরণ নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক জল্পনা ও বিতর্ক। আর এই রাজনৈতিক ঝড়ের ঠিক কেন্দ্রবিন্দুতে যিনি রয়েছেন, তিনি আর কেউ নন—দেশের ২৬তম মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমার। ২০২৫ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি দেশের এই শীর্ষ সাংবিধানিক পদের দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিনি।
দেশজুড়ে চলা নানান আইনি ও রাজনৈতিক বিতর্কের মাঝেই হঠাৎ নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে তাঁর অবিশ্বাস্য শিক্ষাগত যোগ্যতা ও প্রশাসনিক সফরের অজানা কাহিনি। উত্তরপ্রদেশের এক সাধারণ শ্রেণিকক্ষ থেকে শুরু করে দেশের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক ক্ষমতায় পৌঁছানোর এই বর্ণময় সফর যে কাউকেই তাক লাগিয়ে দেবে।
মেধার লড়াইয়ে অনন্য রেকর্ড: ইউপি বোর্ড থেকে আইআইটি কানপুর
১৯৬৪ সালে উত্তরপ্রদেশে জন্ম নেওয়া জ্ঞানেশ কুমারের শৈশব ও কৈশোর কেটেছে গোরক্ষপুর, লখনউ এবং কানপুরে। ছোটবেলা থেকেই তিনি ছিলেন অদম্য মেধাবী।
- ডাবল টপার: ১৯৭৯ সালের ইউপি বোর্ডের হাইস্কুল পরীক্ষা এবং ১৯৮১ সালের ইন্টারমিডিয়েট—উভয় পরীক্ষাতেই পুরো রাজ্যে প্রথম স্থান অধিকার করে ইতিহাস গড়েছিলেন তিনি।
- লখনউয়ের কোলভিন তালুকদার কলেজের প্রাক্তন ছাত্র জ্ঞানেশ বাবু পরবর্তীতে নিজের শিক্ষাজীবনের স্মৃতি চারণ করতে গিয়ে লখনউ শহরকে তাঁর ‘তপোভূমি’ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন।
স্কুলের গণ্ডি পেরিয়ে তিনি প্রবেশ করেন দেশের অন্যতম সেরা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আইআইটি কানপুরে (IIT Kanpur)। ১৯৮৫ সালে সেখান থেকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বি.টেক (B.Tech) ডিগ্রি লাভ করার পরই সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরু করেন।
হার্ভার্ডের ডিগ্রি ও ১৯৮৮ ব্যাচের আইএএস সফর
জ্ঞানেশ কুমারের পড়াশোনার পরিধি কেবল প্রকৌশলবিদ্যাতেই সীমাবদ্ধ ছিল না।
- তিনি ICFAI থেকে বিজনেস ফাইন্যান্সে উচ্চশিক্ষা নেন।
- এরপর বিশ্বের অন্যতম সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়-এর ‘হার্ভার্ড ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট’ থেকে এনভায়রনমেন্টাল ইকোনমিক্স বিষয়ে ডিগ্রি অর্জন করেন।
১৯৮৮ ব্যাচের এই আইএএস (IAS) কর্মকর্তা নিজের সুদীর্ঘ প্রশাসনিক জীবনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলেছেন। আজ দেশের নির্বাচন পরিচালনার সর্বোচ্চ আসনে বসে যখন তিনি তীব্র রাজনৈতিক বিতর্কের মুখোমুখি, তখন তাঁর এই মেধা ও বর্ণময় অতীত সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক মহলে আলোচনার অন্যতম প্রধান বিষয় হয়ে উঠেছে।