ইভিএম পাহারায় রণংদেহি মেজাজ! স্ট্রংরুমের বাইরে তৃণমূল-বিজেপির রাতভর স্নায়ুর লড়াই
২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার মাহেন্দ্রক্ষণ যত এগিয়ে আসছে, বাংলার রাজনৈতিক পারদ ততই চড়ছে। এবার রাজনীতির মূল কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে ইভিএম রাখা স্ট্রংরুমগুলো। ভোট পরবর্তী কারচুপি রুখতে এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর নজরদারির ওপর অনাস্থা প্রকাশ করে প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রের স্ট্রংরুমের বাইরে পাহারায় বসেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের মহিলা সমর্থকরা। পাল্টা সক্রিয় হয়েছে বিজেপিও, যার ফলে স্ট্রংরুম চত্বরগুলো এখন কার্যত রাজনৈতিক রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে।
২৪ ঘণ্টা সতর্ক পাহারায় ‘মহিলা ব্রিগেড’
তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশের পর থেকেই রাজ্যজুড়ে এক নজিরবিহীন দৃশ্য দেখা যাচ্ছে। ঘর-সংসার সামলে দলীয় পতাকা হাতে নিয়ে দিনরাত স্ট্রংরুম পাহারা দিচ্ছেন ঘাসফুল শিবিরের মহিলা কর্মীরা। তাঁদের দাবি, রাতের অন্ধকারে ইভিএম বদল বা যান্ত্রিক কারচুপির চেষ্টা হতে পারে। এই ‘পাহারা’ কেবল নজরদারি নয়, বরং দিল্লির কেন্দ্রীয় শক্তির বিরুদ্ধে এক শক্তিশালী রাজনৈতিক বার্তাও দিচ্ছে। শাসক দলের এই সক্রিয়তা তৃণমূল স্তরে কর্মীদের মনোবল যেমন বাড়িয়েছে, তেমনই প্রশাসনিক মহলেও অস্বস্তি তৈরি করেছে।
বিজেপির পাল্টা অবস্থান ও সংঘাত
তৃণমূলের এই পদক্ষেপকে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি বিজেপি। পদ্ম শিবিরের দাবি, পরাজয় নিশ্চিত জেনে এখন ‘ইভিএম হ্যাকিং’-এর অজুহাত তৈরি করছে শাসক দল। ইভিএমের সুরক্ষায় নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর ওপর আস্থা রাখার কথা বললেও, রবিবার সকাল থেকে বিজেপির মহিলা মোর্চার কর্মীরাও পাল্টা অবস্থানে বসেছেন। তাঁদের অভিযোগ, পাহারার নামে তৃণমূল কর্মীরা গণনাকেন্দ্রের চারপাশে ভীতিকর পরিবেশ তৈরি করছেন। এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানের জেরে গত ২৪ ঘণ্টায় বিধাননগর, বারাসত এবং কলকাতার একাধিক স্ট্রংরুমের বাইরে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও স্লোগান-পাল্টা স্লোগানে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে।
নির্বাচন কমিশন ও নিরাপত্তার কড়াকড়ি
পরিস্থিতি সামাল দিতে নির্বাচন কমিশন স্ট্রংরুমের নিরাপত্তা কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। সিসিটিভি ক্যামেরার লাইভ স্ট্রিমিং এবং ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা বলয় থাকা সত্ত্বেও রাজনৈতিক দলগুলোর এই স্নায়ুর লড়াই থামার লক্ষণ নেই। কমিশন সূত্রে জানানো হয়েছে, স্ট্রংরুমের ১০০ মিটারের মধ্যে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে এবং কোনো অননুমোদিত ব্যক্তির প্রবেশ কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।
সোমবার সকাল থেকে ভোট গণনা শুরু না হওয়া পর্যন্ত এই টানটান উত্তেজনা প্রশমিত হওয়ার কোনো সম্ভাবনা দেখছে না রাজনৈতিক মহল। ৪ মে-র ব্যালট যুদ্ধের ফলাফল যাই হোক না কেন, গণনার আগের এই ‘স্ট্রংরুম সংঘাত’ বাংলার নির্বাচনী ইতিহাসে এক অনন্য নজির হয়ে থাকবে।