“তৃণমূলের ৯৫ শতাংশ কর্মী খুনের নেপথ্যে দলের অন্তর্দ্বন্দ্ব”: গণনার আগে বিস্ফোরক শমীক ভট্টাচার্য
ভোট গণনার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা এবং শাসক দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিয়ে চাঞ্চল্যকর দাবি করলেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। সংবাদসংস্থা এএনআই (ANI)-কে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, পশ্চিমবঙ্গে বর্তমানে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি খোদ তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীরাও নিরাপদ নন।
শমীক ভট্টাচার্যের মূল অভিযোগসমূহ:
- অন্তর্দ্বন্দ্ব ও রাজনৈতিক খুন: শমীক ভট্টাচার্য দাবি করেছেন, গত তিন বছরে রাজ্যে যত রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, তার ৯৫ শতাংশই তৃণমূলের কর্মী। তাঁর মতে, শাসক দলের অন্দরে ‘টাকার ভাগাভাগি’ এবং তোলাবাজির বখরা নিয়ে চরম অন্তর্দ্বন্দ্ব চলছে, আর সেই লড়াইয়ের শিকার হচ্ছেন দলেরই সাধারণ কর্মীরা।
- তদন্তকারী সংস্থার ওপর অনাস্থা: বিজেপি সভাপতির মতে, রাজ্য পুলিশ বা সিআইডির (CID) ওপর মানুষের আর কোনো ভরসা নেই। এমনকি নিহত তৃণমূল কর্মীদের পরিবারগুলোও এখন সত্য উদ্ঘাটনের জন্য সিবিআই (CBI) তদন্তের দাবি জানাচ্ছে।
- গণনা নিয়ে তৃণমূলের ‘ভয়’: ভোট গণনায় রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের ব্যবহারের দাবিতে তৃণমূলের সুপ্রিম কোর্টে যাওয়াকে ‘পরাজয় স্বীকার’ হিসেবে দেখছেন তিনি। শীর্ষ আদালত কেন্দ্রীয় কর্মীদের গণনায় নিয়োগের সবুজ সংকেত দেওয়ায় একে তৃণমূলের বড় ধাক্কা বলে উল্লেখ করেন তিনি।
- পরিবর্তনের ডাক: শমীকবাবু আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জানান যে, ২০২৬-এর এই নির্বাচনে মানুষ নির্ভয়ে ভোট দিয়েছেন। তাঁর দাবি, রাজ্যে সরকার পরিবর্তন হলেই এই অরাজক পরিস্থিতির অবসান ঘটবে।
ফলতা প্রসঙ্গে কটাক্ষ
ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে নির্বাচন কমিশনের পুনর্নির্বাচনের নির্দেশকে স্বাগত জানিয়ে শমীক ভট্টাচার্য বলেন, সেখানে যে ব্যাপক গণতান্ত্রিক অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে, কমিশনের এই সিদ্ধান্তেই তা প্রমাণিত।
ভোটের ফল প্রকাশের আগে শমীক ভট্টাচার্যের এই “তৃণমূলের কর্মীরাই নিরাপদ নন” মন্তব্য রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল ফেলে দিয়েছে। শাসক দলের পক্ষ থেকে অবশ্য এই অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ এবং ‘বিজেপির হতাশার বহিঃপ্রকাশ’ বলে পাল্টা দাবি করা হয়েছে।